আয়কর রিটার্ন দিলেই ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করছাড়, সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সময়মতো আয়কর রিটার্ন জমা দিলে এবার করদাতাদের জন্য রয়েছে বিশেষ করছাড়ের সুযোগ। তবে এ সুবিধা পেতে হলে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে রিটার্নের সঙ্গে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম, সেই পরিমাণ করছাড় পাওয়া যাবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন এ বিধান করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
ধরা যাক, গত বছরের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে কোনো করদাতার করযোগ্য আয় হয়েছে ৭ লাখ টাকা। প্রথম ৪ লাখ টাকার ওপর কোনো কর নেই। বাকি ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে করের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০ হাজার টাকা।
রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ৩০ হাজার টাকা কর পরিশোধ করে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে ৫ শতাংশ করছাড় পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, ৩০ হাজার টাকার ৫ শতাংশ হিসেবে করছাড় হবে ১ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে ওই করদাতাকে পরিশোধ করতে হবে ২৮ হাজার ৫০০ টাকা।
নতুন নিয়মে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় যে কর পরিশোধযোগ্য থাকবে, তার ওপরই করছাড় দেওয়া হচ্ছে। সারা বছর বিভিন্নভাবে আগে পরিশোধ করা করের ওপর এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
যেমন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা পাওয়ার সময় কেটে রাখা অগ্রিম কর, ব্যাংকের এফডিআরের মুনাফা তোলার সময় কাটা উৎসে কর কিংবা বেতন-ভাতার ওপর প্রতি মাসে পরিশোধ করা অগ্রিম কর—এসব করের ওপর করছাড় পাওয়া যাবে না।
অর্থাৎ, সারা বছর অগ্রিম কর বা উৎসে কর হিসেবে পরিশোধ করা অর্থ রিটার্নের সময় মোট কর থেকে বাদ দেওয়ার পর যে অর্থ পরিশোধ করতে হবে, করছাড়ের হিসাব হবে শুধু সেই অর্থের ওপর।
সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, এ ব্যবস্থার ফলে সারা বছর নিয়ম মেনে অগ্রিম কর পরিশোধ করা করদাতাদের সঙ্গে একধরনের বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরে রিটার্ন জমার সময় অনুযায়ী করদাতাদের জন্য করছাড় ও অতিরিক্ত পরিশোধের নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।
জুলাই-সেপ্টেম্বর: পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম, সেই পরিমাণ করছাড়।
অক্টোবর-ডিসেম্বর: কোনো করছাড় বা প্রণোদনা নেই। রিটার্নে পরিশোধযোগ্য পুরো কর দিতে হবে।
জানুয়ারি-মার্চ: পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে।
এপ্রিল-জুন: পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার রিটার্ন জমা পড়েছে। সেপ্টেম্বরের রিটার্ন জমার হালনাগাদ হিসাব এখনো চূড়ান্ত করেনি এনবিআর।
গত অর্থবছরে দেশে মোট ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার রিটার্ন জমা পড়েছিল।
এ ছাড়া, পাঁচ শ্রেণির করদাতা ছাড়া গতবারের মতো এবারও অন্যান্য করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

































