চাপে নয়, দ্বিপাক্ষিক স্বার্থেই বোয়িং কেনার চুক্তি: মাহাদী আমিন
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৪ এএম
বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত কোনো পক্ষের চাপের কারণে নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহাদী আমিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই এ চুক্তি করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফেরার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মাহাদী আমিন বলেন, ‘এটা চাপিয়ে দেওয়ার কোনো বিষয় নয়। দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের ভিত্তিতে বোয়িংয়ের কাছ থেকে কেনার সিদ্ধান্ত বেশ আগেই নেওয়া হয়েছিল। এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। তবে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এতে বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক সিভিল নিউক্লিয়ার কোঅপারেশন নিয়েও একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, এই সফরে শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে আলোচনা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থ ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তা এবং এ বিষয়ে কীভাবে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করা যায়, তা নিয়ে কথা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মাহাদী আমিন বলেন, মানবাধিকার ও বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ও দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তারা বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্বল্পকালীন এই সফরে বহু বছর পর বাংলাদেশ থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন সরকারপ্রধান বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের ভাষণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্বশান্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে মাহাদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু বাংলাদেশের বিষয় নিয়েই কথা বলেননি, তিনি বিশ্বশান্তির কথাও বলেছেন। ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার সময় বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল জাতিসংঘের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।





























