জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও বিভিন্ন কর্মসূচি বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ সুরমায় সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরে প্রায় ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি কর্মসূচি রয়েছে। এসব বৈঠক ও কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের মূল নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি যখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, তখন তা দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে উপস্থাপিত হয়। এর ফলে ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের জন্য সব দেশই বন্ধুরাষ্ট্র। সবার সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রেখেই এগিয়ে যেতে চায় সরকার।
চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল। ফলে এর প্রভাবও নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করতে সরকার বাধ্য হয়েছে। এর প্রভাবে যাতে দ্রব্যমূল্যের ওপর চাপ কম থাকে, সে জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সুসংহত ও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। কোনো পর্যায়ে যেন অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ানো না হয় এবং সরবরাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
এর আগে সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানান।
তিনি বলেন, সিলেটে এআই প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ করে তোলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, দেশের অনেক তরুণ ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয় করছেন। সিলেটের তরুণদেরও প্রশিক্ষণ দিয়ে এই খাতে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করতে চান তারা। প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি যথাযথভাবে পরিচালনা করা গেলে সিলেটের বিপুলসংখ্যক তরুণ ফ্রিল্যান্সিং ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজের সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী সপ্তাহ বা তার পরের সপ্তাহে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রীকে সিলেটে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় এআই প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।
সিলেটে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি রেল যোগাযোগের উন্নয়নেও কাজ চলছে। এতে সিলেটের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
সিলেটের তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যুক্ত করার পাশাপাশি নগরীকে বিনিয়োগ ও ব্যবসার জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন জরুরি বলেও মন্তব্য করেন।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি না থাকলে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সম্ভব নয়। কোনো এলাকায় মাদক বা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা থাকলে সেখানকার মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়।
সিলেট নগরীকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। তার ভাষ্য, সিলেট সিটি করপোরেশন নগরজুড়ে আধুনিক সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি থাকবে এবং রাতেও নজরদারি করা সম্ভব হবে।
প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সিলেটকে বসবাস, বিনিয়োগ, ব্যবসা ও পর্যটনের জন্য আরও আকর্ষণীয় শহর হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

































