২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা এডিবির

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম


২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা এডিবির

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে এগোচ্ছে। তবে প্রবৃদ্ধির গতি বাড়লেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি হয়ে রয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক সেপ্টেম্বর ২০২৬’ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে।

এডিবির হিসাবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরে ধীরে গতি ফিরলেও বাংলাদেশের পুনরুদ্ধার এখনো বহিরাগত ধাক্কা ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে এডিবি। সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরে দেশের মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮ শতাংশে থাকতে পারে।

জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যয়, উৎপাদন ও পরিবহন খরচ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য বিঘ্নের কারণে পণ্যের দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া খাদ্যপণ্যের বাজারেও বিভিন্ন সরবরাহজনিত ঝুঁকি মূল্যস্ফীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

এডিবি মনে করছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির পুনরুদ্ধারকে টেকসই করতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক পরিবেশে সংস্কার জরুরি।

এসব ক্ষেত্রে কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতির উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতেও কিছুটা স্বস্তি রয়েছে বলে মনে করছে এডিবি। রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল থাকলে তা ব্যক্তিগত ভোগব্যয় ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

তবে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে বিঘ্ন দেখা দিলে বৈদেশিক খাতে চাপ বাড়তে পারে।

এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, কৃষি ও সেবা খাত আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগে উচ্চ ঋণ ব্যয়, ঋণের সীমিত প্রাপ্যতা, জ্বালানি সংকট এবং বৈদেশিক চাহিদার অনিশ্চয়তা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ব্যক্তিগত ভোগব্যয়ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালক হিসেবে থাকতে পারে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে পরিবারের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে ভোগব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য বিঘ্নকে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে দেখছে এডিবি।

এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, ব্যাংকিং খাতের চাপ, আর্থিক ও রাজস্ব সংস্কারে বিলম্ব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এডিবির মতে, এসব ঝুঁকির মধ্যেও প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বহিরাগত ধাক্কা মোকাবিলায় সক্ষম হয়ে উঠতে পারে।

Ads