ঘূর্ণিঝড়-বন্যায় বিপর্যস্ত নিউইয়র্ক-নিউজার্সি, জরুরি অবস্থা জারি
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর থেকে সৃষ্ট শক্তিশালী নর’ইস্টারের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও বন্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার ঝড়টি স্থলভাগে আঘাত হানার পর রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে উত্তরে মেইন অঙ্গরাজ্য পর্যন্ত পূর্ব উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এর প্রভাব পড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট ও পেনসিলভেনিয়া।
ঝড়ের কারণে এসব অঙ্গরাজ্যে ইতোমধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজারের বেশি বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই ২৫ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন রয়েছেন বলে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে পূর্ব উপকূলের ১৪টি অঙ্গরাজ্যে ১ হাজার ১৯৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। আরও প্রায় ২ হাজার ৪০০টি ফ্লাইটের নির্ধারিত সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা নেই। এ সময় মধ্য-আটলান্টিক ও নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যা, তীব্র দমকা হাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত এবং বিপজ্জনক রিপ কারেন্ট অব্যাহত থাকতে পারে।
দুর্যোগ পরিস্থিতির মধ্যে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং নিউজার্সির গভর্নর মিকি শেরিল শনিবার নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। কানেকটিকাটের গভর্নর নেড ল্যামন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা না করলেও রাজ্যের জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র সক্রিয় করেছেন।
নিউজার্সির গভর্নর মিকি শেরিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় বাসিন্দাদের ঝড়কে হালকাভাবে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেন।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এক ভিডিওবার্তায় নগরবাসীকে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বন্যার পানির মধ্যে গাড়ি না চালানোর জন্যও সতর্ক করেছেন তিনি।
































