জ্বালানি নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি সই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম


জ্বালানি নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি সই

শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার এবং এ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি কৌশলগত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বিষয়টি বিএনপি মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে জানানো হয়েছে।

সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ সই করেন।

চুক্তির আওতায় বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তি বিনিময়, পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা জোরদার এবং বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

সমঝোতা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাবের বিষয়টি স্বীকার করেছে। বিশেষ করে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় পারমাণবিক শক্তির সম্ভাব্য ভূমিকার কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মানের পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা, সেফগার্ডস এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধের নীতি অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশেরই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সেফগার্ডস চুক্তি ও অতিরিক্ত প্রটোকল কার্যকর রয়েছে।

এ ছাড়া দুই দেশই পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধসংক্রান্ত চুক্তি (এনপিটি)-এর পক্ষভুক্ত। ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়।

দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির উৎস বাড়ানো ও বৈচিত্র্য আনার বাংলাদেশের উদ্যোগের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন এই সমঝোতা হলো। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে রাশিয়ার সহযোগিতায় রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে এবং পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও অব্যাহত রেখেছে।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি খাতের বৃহত্তর সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছিল। ওই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল বহুমুখী উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা। নতুন সমঝোতাটি মূলত বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার ও এ খাতে সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে।

Ads