সাতদিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪২ এএম


সাতদিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি হলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা হলে চুক্তির আওতায় হরমুজে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হতে পারে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরাঘচি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাবে জুনে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে থাকা বিষয়গুলোই রয়েছে। নতুন কোনো শর্ত এতে যোগ করা হয়নি।

ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুও রয়েছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে ঠিক কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা বিস্তারিত জানাননি। তিনি বলেন, মার্কিন পক্ষকে দেওয়া শর্তগুলো জুনের ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকেই উল্লেখ করা হয়েছে।

আরাঘচির ভাষায়, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব এবং সাত দিনের মধ্যে সেখানে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। প্রস্তাবটি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে বলেও জানান তিনি।

গত ১৮ জুন ১৪ দফার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকটি করা হয়েছিল। এতে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হবে না—এমন প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি ছিল।

এ ছাড়া ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ও এতে উল্লেখ করা হয়েছিল। বিপরীতে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে প্রণালির ভবিষ্যৎ জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনার কথাও বলা হয়েছিল।

তবে পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে আবার হামলা ও পাল্টা হামলা শুরু হলে সমঝোতাটি কার্যত ভেস্তে যায়।

ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

ইরানের দাবি, অনুমোদনহীন রুট দিয়ে চলাচল করায় হরমুজে কয়েকটি জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর পর যুক্তরাষ্ট্র হরমুজের আশপাশের ইরানি বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর পাশাপাশি নৌ-অবরোধ জোরদার করে।

এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে।

Ads