মন্ত্রীপাড়ায় নতুন মুখের গুঞ্জন
ঢেলে সাজানো হচ্ছে মন্ত্রিসভা: পতাকা পাওয়ার দৌড়ে বরিশাল অঞ্চলের হাফ ডজন নেতা
০৩ জুন ২০২৬, ১১:০২ এএম
রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ নতুন করে ঢেলে সাজানোর আভাস মিলছে খোদ বিএনপি নেতাদের কাছ থেকেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে মন্ত্রীপাড়ায় যেমন আসতে পারে নতুন মুখ, তেমনই দপ্তর পরিবর্তন কিংবা বাদ পড়তে পারেন বর্তমানের একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। সম্ভাব্য এই রদবদলে নতুন করে পতাকাবাহী গাড়ির বহরে যুক্ত হতে পারেন সংসদ ও সংসদের বাইরে থাকা ৫ থেকে ৬ জন নেতা। আর এই গুঞ্জনে বুক বেঁধেছে দেশের উপকূলীয় বরিশাল অঞ্চলের দুই জেলাসহ গোটা বিভাগের মানুষ।
সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল অঞ্চলের ২১টি আসনের মধ্যে ১৮টিতেই জয়ী হয়েছেন বিএনপি ও সমমনা দলের প্রার্থীরা। রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, যেকোনো নিরপেক্ষ নির্বাচনে এই অঞ্চলের মানুষ বরাবরই বিএনপির পাশে থেকেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দলটির কাছে তাদের প্রত্যাশাও একটু বেশি।
বর্তমানে বরিশাল অঞ্চল থেকে মন্ত্রিপরিষদে রয়েছেন একজন পূর্ণ মন্ত্রী ও তিনজন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার, চিফ হুইপ এবং প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর একজন বিশেষ সহকারীও রয়েছেন এই অঞ্চলের। এত কিছুর পরও পটুয়াখালী জেলার বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের সুপ্ত ক্ষোভ রয়েছে; কারণ জেলাটি থেকে যিনি বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী পদে রয়েছেন, তিনি বিএনপির নন। ফলে সেখানকার ৪টি নির্বাচনি এলাকার দলীয় নেতাকর্মীরা নিজেদের এক প্রকার বঞ্চিতই মনে করছেন।
মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত হতে বরিশাল অঞ্চলের যে কজন নেতার নাম এখন জোরেসোরে শোনা যাচ্ছে, তারা হলেন:
আলতাফ হোসেন চৌধুরী: সাবেক মন্ত্রী, বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান ও বর্তমান এমপি। দলের এই কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির নামও রয়েছে আলোচনার টেবিলে।
বেগম সেলিমা রহমান: দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের এই এমপি এর আগেও একবার টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি উঠেছে তার এলাকা বাবুগঞ্জ-মুলাদী থেকে।
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বরাবরই আলোচনার শীর্ষ সারিতে রয়েছেন।
ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ: বিজেপি (নাজিউর) চেয়ারম্যান ও বর্তমান এমপি। ভোলাবাসীর বিশ্বাস, তিনি মন্ত্রিসভায় গেলে দ্বীপজেলা ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার স্বপ্ন পূরণ হবে।
এবিএম মোশাররফ হোসেন: পটুয়াখালী-৪ আসনের এই এমপি ও কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রাজনৈতিক কারণে প্রায় ২০-২২টি মামলার শিকার। এলাকার মানুষের মতে, পায়রা সমুদ্রবন্দরকে অবহেলার হাত থেকে বাঁচাতে তার মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হওয়া প্রয়োজন।
মজিবর রহমান সরোয়ার: বরিশাল সদর আসনের এমপি, সাবেক হুইপ ও সিটি মেয়র এবকং ছয়বারের এমপি হওয়া এই অভিজ্ঞ নেতাকে মন্ত্রিপরিষদে দেখতে চান সাধারণ মানুষ।
অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন: সুপ্রিম কোর্টের এই বর্ষীয়ান আইনজীবী নেতা, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও বর্তমান এমপি মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলে এলাকার উন্নয়ন সহজ হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
আবুল হোসেন খান: বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির আহ্বায়ক এবং এবার নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত এমপি।
নুরুল ইসলাম নয়ন: যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান এমপি হিসেবে তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে তার নামও আলোচনায় আসছে।
উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষ মনে করেন, এই হেভিওয়েট ও ত্যাগী নেতাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হলে অবহেলিত উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন আরও গতিশীল ও তরান্বিত হবে। এখন দেখার বিষয়, উপকূলবাসীর এই আশার প্রতিফলন প্রধানমন্ত্রীর নতুন সিদ্ধান্তে কতটুকু প্রকাশ পায়।























