প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও সহায়ক পরিবেশের জোর বার্তা ঢাকার
১১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২০ এএম
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ও এগিয়ে নিতে ভারত সরকারকে একটি কার্যকর ও সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির কড়া তাগিদ দিয়েছে ঢাকা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন, তাঁর এবং শরিফ ওসমান হাদির খুনিদের প্রত্যর্পণসহ একাধিক ইস্যু নিয়ে দিল্লির মনোভাবের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এসব জটিল স্পর্শকাতর বিষ্যের সমাধান এবং অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত নয় বলেও স্পষ্ট বার্তা প্রদান করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার ঢাকার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। নব নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তাকে সরকারের এই শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্রুত ফেরত পাঠানোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির অভিযুক্ত হত্যাকারীদের ভারতে গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় নথিপত্র হস্তান্তরের বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁদের দ্রুত প্রত্যর্পণের জোর দাবি জানানো হয়। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং ভারতীয় পক্ষকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর আঘাত আসে এমন কোনো পদক্ষেপ যেন পুনরায় না ঘটে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারতে আশ্রয় নেওয়াকে কেন্দ্র করে দু'দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। এরপর থেকে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার, উপ-হাইকমিশনে হামলা এবং ভিসা ব্যবস্থা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো ঘটনায় বৈরিতা আরও বাড়ে। গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পর সম্পর্কের খানিকটা উন্নতির আভাস পাওয়া গেলেও শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেওয়া, ভারতের পুশইন চেষ্টা এবং সাম্প্রতিক দিল্লি সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আবার তুঙ্গে ওঠে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, দিল্লি থেকে দুটি আমন্ত্রণপত্র থাকলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ। তিনি উল্লেখ করেন, বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে এবং ভারত সরকারের তরফ থেকে দুটি আলাদা প্রেক্ষাপটে আমন্ত্রণ জানানো হলেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত এই সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনীতিতে বিশেষ পদক্ষেপ হিসেবে পাঠোনো সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সমস্যার সমাধানে গঠনমূলক আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দীনেশ ত্রিবেদী জানান, দুই দেশের যৌথ আলোচনায় যেকোনো মতপার্থক্য নিরসন সম্ভব। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক, তবে উন্মুক্ত সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই উভয় দেশের জন্য কল্যাণকর সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।


















