নিরাপত্তার গ্যারান্টি পেলে দেশে ফিরে বিচারে মুখোমুখি হতে প্রস্তুত সাকিব
০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, সরকার যদি তার সুরক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করে, তবে তিনি নিজ দেশে ফিরে যেকোনো বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। টানা দুই বছর ধরে প্রবাসে অবস্থানরত এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের এই অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেন। সেই সঙ্গে দেশের মাটিতে একটি বিদায়ী টেস্ট বা ওয়ানডে সিরিজ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন তিনি।
২০২৪ সালের আগস্টে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটার পর থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনে জয়ী সাবেক এই সংসদ সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় একটি টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ব্যস্ত থাকা সাকিব মুঠোফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সরকার আমাকে নিরাপত্তা দিলে আমি দেশে ফিরতে এক মুহূর্ত দ্বিধা করব না। আদালতের মুখোমুখি হওয়া থেকে শুরু করে সব আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আমি প্রস্তুত, কারণ আমি জানি আমি কোনো অপরাধ করিনি।’ বয়স ও পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এখনও বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন লিগে খেলছি এবং খেলাটা উপভোগ করছি। তবে বয়স তো থেমে নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সম্মানজনকভাবে অবসর নেওয়ার জন্য আমি বেশি দিন অপেক্ষা করতে চাই না।’
নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি পুরনো তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে এই অলরাউন্ডার জানান, ২০২৪ সালের শেষের দিকে সরকারের সবুজ সংকেত পেয়েই তিনি দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানে চেপেছিলেন। কিন্তু যাত্রাপথে দুবাই বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতিকালে তাকে জানানো হয় যে তিনি আর দেশে ফিরতে পারবেন না। সাকিব বলেন, ‘১২ ঘণ্টার মাথায় ঠিক কী কারণে সিদ্ধান্ত বদলে গেল, তা আজও আমার কাছে রহস্য। পরে শুনতে পেলাম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করার কারণে নাকি আমার ওপর নিষেধাজ্ঞা আসে। স্রেফ একটি সৌজন্যমূলক পোস্টের জন্য দেশে ঢোকা বন্ধ করে দেওয়া কেমন বিচার, তা আমার বোধগম্য নয়।’
সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি ও বক্তব্য দেওয়া প্রসঙ্গে সাকিব জানান, সেখানে তিনি কেবল দেশের উন্নয়ন ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই বিষয়ে তার কোনো আক্ষেপ বা অনুশোচনা নেই। এমনকি শেখ হাসিনার ঘোষিত বিভিন্ন রাজনৈতিক রূপরেখা ও আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সম্ভাব্য পরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে অধিনায়কের নির্দেশনা অনুসরণ করাই দলের নিয়ম। আমাদের নেতৃত্ব যা সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা অনুসারী হিসেবে সেটাই মেনে চলব।’
বর্তমানে দেশে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা সক্রিয় রয়েছে—যার একটি ২০২৪ সালের গণআন্দোলনকালীন হত্যা মামলা এবং অন্যটি দুর্নীতি দমন কমিশনের আর্থিক সংক্রান্ত মামলা। হত্যা মামলাটি সম্পর্কে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে সাকিব বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি কানাডার টরন্টোতে একটি টি-১০ লিগের ম্যাচ খেলছিলাম। সুদূর প্রবাসে উপস্থিত থাকার পরও আমাকে হত্যা মামলায় আসামি করা একটি হাস্যকর বিষয়।’ তিনি জানান, গত দেড় বছর ধরে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ রেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে, যার ফলে তিনি চরম আর্থিক ও সামাজিক অস্বস্তিতে রয়েছেন।
বিগত দুই বছর ধরে দেশে অবস্থানরত বাবা-মায়ের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে না পারার চরম কষ্টের কথা ব্যক্ত করেন এই তারকা ক্রিকেটার। তার বাবা-মাকেও দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে নিজের অবদান রক্ষা এবং আইনি জটিলতা নিরসনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাকিব। যদিও সাকিব আল হাসানের এই সাক্ষাৎকার ও আলোচনার প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।























