রাশিয়ার রাডার প্রযুক্তি অনুকরণের পথে পেন্টাগন
মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষয়ক্ষতির পর মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা পুনর্গঠনের উদ্যাগ
১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
পেন্টাগন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব বাড়াতে প্রচলিত ওয়েস্টার্ন ডিজাইন ছেড়ে রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তির আদলে নতুন মোবাইল রাডার সেন্সর যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। মূলত ইরানের সাথে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে কোটি কোটি ডলার মূল্যের উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের আকাশ সুরক্ষা কৌশলে এমন বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
সামরিক গবেষণা সংস্থা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পেন্টাগনের এই নতুন ভাবনার কথা। প্রচলিত মার্কিন বা পশ্চিমা আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোতে রাডার, কমান্ড সেন্টার এবং মিসাইল লঞ্চার একটি নির্দিষ্ট জায়গায় একত্রিত বা কাছাকাছি থেকে কাজ করে। অন্যদিকে রাশিয়ার বিখ্যাত S-300 কিংবা S-400 প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় শুরু থেকেই আলাদা 'মোবাইল সেন্সর প্ল্যাটফর্ম' ব্যবহার করা হয়। যেখানে রাডার মূল লঞ্চার থেকে বেশ দূরে অবস্থান করে শত্রু চিহ্নিত করে এবং সেই তথ্য নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লঞ্চারে পাঠায়। যুক্তরাষ্ট্র এখন তাদের 'থাড' (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ঠিক এই রুশ মডেল অনুসরণ করার রূপরেখা তৈরি করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রিভল্যুশনারি গার্ডসের (IRGC) আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাত্র প্রথম কয়েক সপ্তাহের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের গুরুত্বপূর্ণ আকাশ পর্যবেক্ষণ রাডার ধ্বংস হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে আনুমানিক ৭ কোটি ডলার মূল্যের AN/TPS-59 রাডারের পাশাপাশি 'থাড' ব্যবস্থার দুটি অত্যাধুনিক AN/TPY-2 X-band মোবাইল রাডার রয়েছে—যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বেশি। এ ছাড়া কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি AN/FPS-132 রাডারও মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়। মূল রাডার ব্যবস্থাগুলো বিকল হয়ে পড়ায় মার্কিন ও তাদের মিত্র বাহিনীর আগাম সতর্কবার্তা পাওয়া এবং লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করার সক্ষমতা সাময়িকভাবে বড় ধরনের ধসের মুখে পড়ে।
এই আকস্মিক বিপর্যয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিকল্প সেন্সরের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীকে তাদের যুদ্ধজাহাজে থাকা সেন্সর এবং তুরস্কে মোতায়েন করা একটি অতিরিক্ত AN/TPY-2 রাডারের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আকাশ প্রতিরক্ষা সমন্বয় করতে হচ্ছে।
যুদ্ধক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ২ হাজারের বেশি বিমান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ৮টি দেশে অবস্থিত ২০টিরও বেশি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সাথে ঘাঁটিতে রাখা অবস্থায় অন্তত ৪২টি মার্কিন সামরিক বিমান ধ্বংস বা অকেজো হয়ে গেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সব মিলিয়ে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সরঞ্জাম ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির অর্থনৈতিক পরিমাণ ১,৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এই অভাবনীয় ক্ষয়ক্ষতি রুখতেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব Integrated Battle Command System (IBCS)-এর অধীনে দূরবর্তী মোবাইল রাডার যুক্ত করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছে। নতুন এই পদ্ধতিতে মূল রাডার বা সেন্সর শত্রু ধ্বংস করলেও মিসাইল লঞ্চার সুরক্ষিত থাকবে এবং দূর থেকে পাঠানো ডাটা ব্যবহার করে শত্রুর ওপর পাল্টা হামলা চালাতে পারবে। সামরিক বিশ্লেষকরা একে মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা কৌশলে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।
























