অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য সুসংবাদ
দীর্ঘ জট কাটিয়ে অবশেষে ছাড় হলো শত শত কোটি টাকার প্রাপ্য অর্থ
১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার প্রহর কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রাপ্য অবসরসুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা অর্থের একাংশ একযোগে ছাড় করা হয়েছে। ইতিপূর্বে বছরের পর বছর ধরে ফাইল আটকে থাকা, দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো, সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগে তার জট খুলতে শুরু করেছে। মূল বেতনের কর্তন করা অংশ থেকে জমা হওয়া এই অর্থের প্রথম কিস্তি ইতিমধ্যেই শিক্ষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল মাধ্যমে পাঠানো শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি গত শনিবারে সরকারের এক বিশেষ ডিজিটাল কর্মসূচির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর ও কল্যাণসুবিধার এই অর্থ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন এলাকায় অবস্থিত কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসরসুবিধা বোর্ডের কার্যালয় সূত্রে এই অর্থ ছাড়ের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্বোধনের পরপরই আবেদনকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের মুঠোফোনে অর্থ প্রাপ্তির খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হয়, যা তাঁদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূর করে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
অর্থ বরাদ্দের সার্বিক চিত্র
অবসরসুবিধা: মোট ৭০,১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীর অনুকূলে প্রায় ১,৫৫০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে (২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত আবেদনকারীদের জন্য)।
কল্যাণসুবিধা: ৫৩,৪৭৭টি আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৬৪৭ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে (২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত আবেদনকারীদের জন্য)।
সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ভাতা:
কল্যাণসুবিধার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং অবসরসুবিধার অংশ হিসেবে আপাতত সর্বোচ্চ সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত প্রদান করা হচ্ছে।
অর্থ স্থানান্তরে স্বচ্ছতা ও ভুল সংশোধনের নিয়ম-
অবসরসুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট জানিয়েছে, অর্থ স্থানান্তরে কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগী বা অনিয়ম এড়াতে সরাসরি ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++) সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষকদের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হচ্ছে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম বা মনোনীত ব্যক্তির নথিতে সামান্যতম গরমিল থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ আটকে যাচ্ছে। প্রায় চার হাজারের বেশি অসম্পূর্ণ বা ভুল আবেদন বর্তমানে সংশোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। যাঁদের নথিতে ভুল রয়েছে, তাঁরা ইস্কাটন কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিয়ে সংশোধন করার পরপরই স্থগিত থাকা অর্থ অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাবেন।
পুরো বকেয়া পরিশোধে বিশেষ বরাদ্দের তাগিদ-
বর্তমানে যে অর্থ প্রদান করা হয়েছে, তা তাঁদের মূল পাওনার কেবল একটি অংশ। সর্বোচ্চ গ্রেডের একজন শিক্ষক অবসরের পুরো সুবিধা হিসেবে প্রায় ৩৮ লাখ টাকা এবং কল্যাণসুবিধা বাবদ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার যোগ্য। বর্তমানে ৭০ হাজারেরও বেশি আবেদনকারীর সমুদয় অবসরসুবিধা মিটিয়ে দিতে প্রায় ৯,৭৩০ কোটি টাকা এবং কল্যাণসুবিধার জন্য আরও প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে প্রতি মাসে শিক্ষকদের বেতন থেকে চাঁদা বাবদ জমা হয় মাত্র ১০৪ কোটি টাকা, যার বিপরীতে মাসিক চাহিদা দাঁড়িয়েছে ২১০ কোটি টাকায়।
অবসরসুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তারা জানান, সরকার ইতিমধ্যেই মোট ৪,০০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন করলেও তা থেকে নির্দিষ্ট সময় পর পর মুনাফা আসে। ফলে এককালীন বিপুল পরিমাণ বকেয়া মেটাতে হলে সরকার থেকে বিশেষ নগদ বাজেট বরাদ্দ অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষকেরা আশা করছেন, বর্তমানের এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় খুব শিগগিরই বাকি বকেয়া অর্থও পর্যায়ক্রমে তাঁদের হাতে পৌঁছে যাবে।


















