সংরক্ষিত নারী সাংসদদের পদায়ন অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক: ডা. শফিকুর রহমান

নয়ন তারা

২৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম


সংরক্ষিত নারী সাংসদদের পদায়ন অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক: ডা. শফিকুর রহমান

 

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের বিরোধী দলের আসনগুলোতে অতিরিক্ত দায়িত্বে বসানোর পদক্ষেপকে চরম অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সংবিধানের তোয়াক্কা না করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বিজয়নগরে অবস্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সৌজন্য পরিদর্শন ও মতবিনিময় পর্ব শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিরোধীদলীয় নেতা এ মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে বিরোধী দলের সংসদীয় আসনে বসানোর কোনো বিধান নেই। বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে অতীতে কখনোই এ ধরনের নজির দেখা যায়নি। এই অসাংবিধানিক নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রশ্নের মুখোমুখি করা হলে তারা পরস্পরবিরোধী ও অসংলগ্ন মন্তব্য করছেন, যা সরকারের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে চরম ধোঁয়াশা ও অস্পষ্টতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিদের অধিকার ও বৈষম্য প্রসঙ্গে জামায়াত প্রধান উল্লেখ করেন, সাধারণ আসনগুলোর মতোই সংসদীয় কাঠামোতে মোট ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। অথচ আইনসভায় তাদের সাথে ধারাবাহিক বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। সংসদে দীর্ঘ জোরালো প্রতিবাদ ও তুমুল সমালোচনার মুখে সম্প্রতি তাদের জন্য সামান্য নামমাত্র ফান্ড বা বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হলেও তা অত্যন্ত অপ্রতুল ও অযৌক্তিক। সংসদ সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও বরাদ্দের ক্ষেত্রটিতে সবার জন্য সমতা নিশ্চিত করা একান্ত আবশ্যক।

একটি শক্তিশালী ও কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের রূপরেখা তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে পারস্পরিক দায়বদ্ধতা ও শ্রদ্ধা কোনো একতরফা বিষয় হতে পারে না; এটি উভয় পক্ষ থেকেই আসতে হয়। একটি দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারি দলের পাশাপাশি শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী দলের উপস্থিতি অপরিহার্য। কার্যকর বিরোধী দল ব্যতীত গণতন্ত্র কেবল ফাঁপা বাক্যে পরিণত হয়। পরিশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমাজে বিদ্যমান স্থিতিশীলতা ও শান্তি-শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ রাখার প্রধান দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপরই বর্তায়।

Ads