আদিবাসী তরুণদের নিজস্ব ভাষা-সংস্কৃতি নথিভুক্তকরণে প্রশিক্ষণ শুরু
২৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
আদিবাসী তরুণ লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট ও সমাজকর্মীদের নিজস্ব ভাষা, মৌখিক ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক উপাদান ও সম্প্রদায়গত জ্ঞান নথিভুক্তকরণে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকায় ‘ডকুমেন্টিং আওয়ার ওন ভয়েসেস: ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচারাল ডকুমেন্টেশন ট্রেনিং ফর ইয়াং ইন্ডিজেনাস অ্যাক্টিভিস্টস’ শীর্ষক এ কর্মশালা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক আদিবাসী ভাষা দশক (IDIL 2022–2032)-এর অংশ হিসেবে ২৮ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (IMLI), জাবারাং কল্যাণ সমিতি ও মালেয়া ফাউন্ডেশন যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক আবুল কালাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মনিরা বেগম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা। সঞ্চালনা করেন ড. হরিপূর্ণ ত্রিপুরা।
উদ্বোধনী পর্বে বক্তারা বিপন্ন ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে তরুণ আদিবাসী গবেষক ও অ্যাক্টিভিস্টদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির গল্প, গান, কবিতা, রূপকথা, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও জীবন-ইতিহাস নথিভুক্ত করা হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বাংলাদেশের বহুভাষিক বাস্তবতা ও বিভিন্ন ভাষার বিপন্নতার কারণ তুলে ধরে ভাষা সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
কর্মশালায় বাংলাদেশের ভাষা পরিস্থিতি, ভাষার বিপন্নতা ও মৌখিক সাহিত্য, সংস্কৃতির উপাদান, এথনোগ্রাফিক পদ্ধতি, গবেষণার নৈতিকতা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং, ট্রান্সক্রিপশন ও ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির ব্যবহারিক বিষয়েও অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কর্মশালায় অংশ নেওয়া তরুণরা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের ভাষা ও সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান বৈজ্ঞানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিতে নথিভুক্ত করার বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন করবেন। শেষ দিনে মাঠপর্যায়ের কাজের যৌথ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র দেওয়া হবে।




















