দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নে বিধ্বস্ত পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক; প্রয়োজন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দৃষ্টি
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০২:৪৩ পিএম
ব্যাংকিং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম ও দুর্নীতিতে বিধ্বস্ত ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’কে পরিপূর্ণ ধ্বংস করার ব্যাপক তৎপর থাকার অভিযােগ রয়েছে কতিপয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। শুরু থেকেে এ কর্মকর্তারা নিজেদের আখের গুছাতে বিভিন্ন অনিয়মের ঘুর্ণিপাকে চালিয়ে আসছিল এই ব্যাংকের কার্যক্রম। এই নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে অসংখ্যবার সংবাদ প্রকাশ হয়েছে কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন নিয়ে। কিন্তু, এত কিছুর পরেও কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের লাগাম টেনে ধরা কোনভাবে সম্ভব হচ্ছেনা বলে মনে করছেন ব্যাংককিং সেক্টরের সংশিষ্টরা।
প্রতিবেদকের তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, 'পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক- কর্মচারীর গৃহ নির্মাণ অগ্রিম নীতিমালা ২০২৩' লঙ্ঘন করে এ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক এ. বি. এম জাহিদ হোসেন এর দায়িত্বাধীন বিভাগ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ইং তারিখে মোট ৫৪০ জনের অনুকূলে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তা/কর্মচারীর গৃহ নির্মাণ ঋণ অগ্রিম বরাদ্ধ মঞ্জুর করা হয়েছে। তন্মধ্যে 'পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মচারীর গৃহ নির্মাণ অগ্রিম নীতিমালা ২০২৩' পাস কাটিয়ে অর্ধশতাধিকের উপরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঋণ অগ্রিম বরাদ্ধ মঞ্জুর করার তালিকায় সে তথ্য মিলেছে। প্রবিধানমালা পড়ে স্পষ্ট দেখা যায় ৪(১৫) নং ধারা অনুযায়ী ৩০ বৎসরের কম বয়সি কোন কর্মকর্তা/কর্মচারীকে গৃহ নির্মাণ ঋণ দেওয়ার সুযোগ নাই। অথচ মঞ্জুরি পত্রের ক্রমিক নং- ৫২৭, জন্ম তারিখ- ২০ অক্টোবর, ১৯৯৭ইং ৩০ বৎসরের কম বয়সি ইকবাল হোসেন নামের এই কর্মচারীকে কি বিবেচনায় নিয়ে গৃহ নির্মাণ অগ্রিম ঋণ বরাদ্ধ মঞ্জুর করা হয়েছে!
অপরদিকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে গৃহ নির্মাণ ঋণ অগ্রিম বরাদ্ধ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, অনেক জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তা/কর্মচারীকে পারফর্মেন্সের অজুহাত দেখিয়ে গৃহ নির্মাণ অগ্রিম মঞ্জুর করা হয়নি। কিন্তু কর্মরত একই শাখায় পারফর্মেন্সে ১৩তম হয়েও, প্রথম ১২ জনকে উপেক্ষা করে গৃহ নির্মাণ অগ্রিম মঞ্জুর করা হয়েছে, যার গৃহ ঋণ বরাদ্ধের তালিকার ক্রমিক নং- ২৭৩। নীতিমালা অনুযায়ী ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য সম্পূর্ণ সিলিং মঞ্জুর করার কথা থাকলেও যাদের জন্য ফ্ল্যাট ক্রয় মঞ্জুর করা হয়েছে তাদের অনেকের ক্ষেত্রেই পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে সম্পূর্ণ সিলিং মঞ্জুর করা হয়নি (মঞ্জুরি পত্রের ক্রমিক নং- ১২৪)।
এছাড়া অনেকে ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য আবেদন করলেও তাকে জোরপূর্বক জমিক্রয় মঞ্জুর করা হয়েছে, যাদের গৃহ ঋণ বরাদ্ধের তালিকার ক্রমিক নং- ১৩৮, ১৩৯ সহ যা তালিকার আরও অনেকে রয়েছেন। লক্ষনীয় বিষয়, ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’ এর আদেশ পত্রে প্রথম হেডিংএ লেখা ছিল নিম্মােক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুকুলে নামের পাশে বর্ণিত গৃহ নিমার্ণ অগ্রীম বাবদ প্রাথমিক বরাদ্ধ করা হল। এবং ওই অফিস আদেশের ৮ নং কলামের উপরি ভাগে লেখা আছে `Sector for Allotment' এবং সে কলামের প্রতিটি সিরিয়ালের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত লেখা আছে ‘Land Purchase’। স্বভাবতই অফিস আদেশের এই লেখা দেখে যে কেউ মনে করতে পারে ব্যাংক তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ‘জমি ক্রয়’ বাবদ অর্থ ঋণ বরাদ্ধ দিয়েছে গৃহ নির্মাণের জন্য নয়।
‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’ এর নোটিশের ভাষায় জনমনে বিভ্রান্তি না ছাড়ালেও উত্তাপ ছড়াবে নিঃসন্দেহে। নোটিশে তারা মনের মাধুরী মিশিয়ে ঋণ বরাদ্ধে ‘গৃহ নিমার্ণ’ এবং ‘জমি ক্রয়’ এই বাক্য দুটিকে সমন্বয় করে সমার্থক শব্দে রূপান্তর করে একি অর্থে প্রকাশ করেছে। ‘গৃহ নিমার্ণ’ এবং ‘জমি ক্রয়’ তাদের নিয়মে কোন ভিন্ন শব্দ/বাক্য নয়। এই অভিন্ন বাক্য/শব্দ দিয়ে অনিয়মের ফাঁকে প্রবেশ করে বাংলা একাডেমির অভিধানেও নতুন ও অভিন্ন বাক্য/শব্দ সংযোজনে চেষ্টার ভুমিকা রাখলো ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’ কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও, সেই অভিযোগ অনিষ্পন্ন রেখে 'পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মচারীর গৃহ নির্মাণ অগ্রিম নীতিমালা ২০২৩' এর ৪(২) নং শর্ত লঙ্ঘন করে তার প্রাপ্ত সিলিং এর সম্পূর্ণ পরিমাণ ঋণ বরাদ্ধ মঞ্জুর করা হয়েছে।
গত অর্থ বছরের বাজেট হতে অর্থাৎ ২৭ নভেম্বর ২০২৩ ইং তারিখে গৃহ নির্মাণ অগ্রিমের জন্য প্রাথমিক বরাদ্দ অনুমোদন পাওয়া সত্ত্বেও পুনরায় চলমান অর্থ বছরের বাজেট থেকে ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ইং তারিখে গৃহ নির্মাণ অগ্রিমের জন্য প্রাথমিক বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়। যাদের মঞ্জুরি পত্রের ক্রমিক নং- ১৯৮, ১৯৯ সহ আরও অনেককে।
তথ্য-উপাত্ত্ব মতে, মহাব্যবস্থাপক এ. বি. এম জাহিদ হোসেন ক্রেডিট কমিটির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়ার সুযোগ নিয়ে বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কতিপয় অসৎ সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসারের সহযোগিতায় 'পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মচারীর গৃহ নির্মাণ অগ্রিম নীতিমালা ২০২৩' লঙ্ঘন করে কোটি কোটি অর্থের বিনিময়ে নিজেদের পছন্দের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ‘Land Purchase’-এর অগ্রিম ঋণ বরাদ্ধ মঞ্জুর করেছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।
👉 কী করেন আর কী করেননা এই ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা!
ব্যাংক কার্যক্রম শুরুর পূর্বেকার ঘটনা বাদ দিয়ে জেনে আসা যাক ২০২২ সালের ১৮ মে মাসের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে। এই দিনে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়ের তত্ত্বাবধানে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার পদে নিয়োগের নিমিত্তে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং প্রকাশিত সে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’-এ ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি বিপুল অর্থ লেনেদেনের মাধ্যমে অধিকাংশ কর্মকর্তা সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন বলে কথিত রয়েছে। যেভাবেই হোক, সুপারিশপ্রাপ্ত এ ২৩ জন সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (শিক্ষানবিশ) পদে ৭ অক্টোবর ২০২৩ ইং তারিখ থেকে ১ এপ্রিল ২০২৪ ইং তারিখের মধ্যে বিভিন্ন সময় যোগদান করেন।
তথ্য ও সূত্রমতে জানাযায়, সে সময় পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার ব্যাংকিং ক্ষেত্রে তাদের ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করতে, ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’-এ উচ্চতর গ্রেডে একই সময়ে এতো বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার অন্যতম কারণ। এসকল কর্মকর্তাগণকে দ্রুত প্রমোশন প্রদান করে অন্যান্য ব্যাংকে স্থানান্তরের মাধ্যমে ক্ষমতার সম্প্রসারন ঘটানোই ছিলো এই নিয়োগের প্রধান উদ্দেশ্য। এমনকি এই নিয়োগ পাওয়ার সুবাদে এই শিক্ষানবিশ থাকা কর্মকর্তাগণ প্রত্যক্ষ্য ও পরোক্ষভাবে পতিত ফ্যাসিবাদ আওয়ামীগের এজেন্ডা ভিতরে ভিতরে বাস্তবায়ন করে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতেন বলে জানিয়েছেন এ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গত ৫ আগস্ট ২০২৪ ইং তারিখ ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের পতনের পর নিজেদের চাকরী হারানোর আশঙ্খায় ৭ অগাস্টের ২০২৪ইং তারিখে হঠাৎ তাদের শিক্ষানবিশকাল নির্দিষ্ট সময়ে সমাপ্ত হওয়ার আগে সাবেক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোঃ জামিনুর রহমান-কে স্বীয় অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রবিধানমালার নিয়োগ ধারা পাস কাটিয়ে জোরপূর্বক স্থায়ীকরন পত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন যার প্রমাণপত্র প্রতিনিধির কাছে রক্ষিত আছে।
যদিও পরবর্তীতে ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোঃ জামিনুর রহমান নিজের জীবন রক্ষার্থে তাঁর স্বাক্ষরিত অফিস আদেশটি কৌশলে বাতিল করেন।
এমননি তিনি নিজে শিক্ষানবিশদের বল প্রয়োগ ও আইন লঙ্ঘন করে স্থায়ী করনের চিঠি অনুমোদন করার বিরূদ্ধে রমনা মডেল থানায় ১৩ আগস্ট ২০২৪ইং তারিখে একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। যার নং- ৩৫২।
এছাড়া ১৪, ১৫ আগস্ট ২০২৪ ইং তারিখে এই শিক্ষানবিশ সিনিয়র প্রিন্সিপাল কর্মকর্তারা তাদের নেতৃত্বে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীদেরকে একত্র করে সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীগণকে অফিস করতে না দিয়ে প্রধান কার্যালয়য়ের সম্মুখে রাস্তা অবরুদ্ধ করে জোরপূর্বক শোকদিবস পালনে বাধ্য করেছিল।
তথ্যে আরো জানা যায়, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ ইং তারিখ আগ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের দোসর হয়ে কাজ করায় সুপারিশপ্রাপ্ত এ ২৩ জন শিক্ষানবিশ সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসারদের অনেকের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা রয়েছে। যার সি. আর মামলা নং- ৯৩৭/২০২৪। তারিখ- ৫ নভেম্বর ২০২৪ইং। বর্তমানে মামটি ডিবি‘র তদন্তাধীন রয়েছে।
আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগানধারী কর্মকর্তা চক্র বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ প্রমান করতে এবং সরকার পতনে নানা যড়যন্ত্র, ভিত্তি ছাড়াই ব্যাংক-এ বিশৃঙ্খলা তৈরি করে চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ সুবিধাবাদী, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের দোসররা এখন ভোল্ট পাল্টে ব্যাংকে স্থায়ী কর্মকর্তা হওয়ার পাঁয়তারা করছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক-এর কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের দাবি- ফ্যাসিবাদের উত্থান রোধে ‘ভোল্ট পাল্টানো’ সেসকল শিক্ষানবিশ সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসারদের নিয়োগ বাতিল করার।
👉 ট্যাক্স এবং ভ্যাট ফাঁকি!
প্রতিবেদকের অপর আরেকটি অনুসন্ধানে উঠে আছে চমকপ্রদ তথ্য। আইটি সেকশনের পরামর্শক ‘নাসিম আহমেদ’ নিয়মিত মাসিক বেতন নিয়েছেন ঠিকই কিন্তু, বেতন থেকে কোন ভ্যাট এবং ট্যাক্স কর্তন করে সরকারী কোষাগারে জমা করেননি। তাঁর চাকুরীর ইতিহাস ঘেটে জানা যায় তিনি যোগদান করেছিলেন ২৯ নভেম্বর ২০১৭ সালে। আর চকুরীর মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ ইং। তাঁর চাকুরীর বয়সকাল ৭ বছর ১ মাস। জনাব সাইমুম রহমান সজিব এর মাসিক বেতন ১,০০,০০০ টাকা। চাকুরীকালীন সময়ে তাঁর বেতন থেকে ভ্যাট ও ট্যাক্স ২৫% কর্তন করলে সর্বমোট মাসিক বেতন পেতেন ৬০,০০০ টাকা। হিসেব করলে দেখা যায় তিনি তা না করে ফাঁকি দিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন ২১,২৫,০০০ লক্ষ টাকা।
অনুরূপভাবে আইটি সেকশনের উপ পরামর্শক ‘সাইমুম রহমান সজিব’ নিয়মিত মাসিক বেতন পেতেন। কিন্তু, তিনিও কখনো বেতন থেকে কোন ভ্যাট এবং ট্যাক্স কর্তন করে সরকারী কোষাগারে জমা করেননি। তিনি চাকরীতে যোগদান করেছিলেন ২৮ জুন ২০১৭ইং এবং তাঁর চকুরীর মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ইং। তাঁর মোট চাকুরীর বয়সকাল ৭ বছর ৬ মাস। জনাব সাইমুম রহমান সজিব এর মাসিক বেতন ৮০,০০০ টাকা। চাকুরীকালীন সময়ে তাঁর বেতন থেকে ভ্যাট ও ট্যাক্স ২৫% কর্তন করলে সর্বমোট মাসিক বেতন পেতেন ৬০,০০০ টাকা। সে হিসেব করলে দেখা যায় ফাঁকি দিয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন ১৮,০০,০০০ লক্ষ টাকা।
অপর আরেকটি কর্মকর্তা ডাটাবেজ এ্যাডমিনিস্ট্রেটর মোঃ শাহরিয়ার রাসেল এর ১১ মাসের বেতনের ভ্যাট এবং ট্যাক্স ফাঁকির কিচ্চা। তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেছেন ২০১৭ সালের জুন মাসে। তিনি মাসিক বেতন পেতেন ১,২০,০০০ টাকা। তিনিও চাকুরীকালীন সময়ে তাঁর বেতন থেকে কোন ভ্যাট ও ট্যাক্স দেননি। তিনি ২৫% ফাঁকি দিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন ৩,৩০,০০০ টাকা।
এ ব্যাংকের ভিতর-বাহির রন্ধ্রে রন্ধ্রে এত দুর্নীতি হয়েছে যে, উপরে তথ্য-প্রমাণাদি প্রমান করে ব্যাংকের কি দূরবস্থা! এ প্রতিবেদনে যতটুকু দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তা খুবই নগণ্য, মহাসাগরের এক বিন্দু জলের বিবেচনায়ও সমান নয়। যে উদ্দেশ্যে এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হয়েছে সে লক্ষ্য অধরাই থেকে যাবে শুধুমাত্র কিছু দুর্বৃত্ত ও দুষ্কর্মকারী কর্মকর্তা ছাড়া।
তাই এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক-এ কর্মরত বৈষমের স্বীকার সর্বস্তরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের ন্যায্য অধিকার, পারফর্মেন্স বিবেচনা করে ব্যাংকের ঋণ সুবিধাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেতে অন্তর্বতীকালীন সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
👉 মহাব্যবস্থাপক- এ. বি. এম জাহিদ হোসেন কে? নীচে তাঁর সংক্ষিপ্ত বিবরণতুলে ধরা হল----
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক এ. বি. এম জাহিদ হোসেন মানে সর্বেসর্বা। তিনি একাধারে ৭টি বিভাগের দায়িত্বগ্রহণের মাধ্যমে প্রমাণ করে বুঝিয়ে দিলেন ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক হতে হলে এমনই দক্ষ ও বিচক্ষণ, দুধর্ষ হতে হয়। প্রশাসন মহাবিভাগ, আইসিটি সিস্টেম বিভাগ, আইসিটি অপারেশন বিভাগ, বাজেট ও হিসাব মহাবিভাগ, শৃঙ্খলা ও আপিল মহাবিভাগ, প্রকৌশল বিভাগ ও কর্মী ব্যবস্থাপনা বিভাগসহ মোট ৭টি বিভাগ তাঁর নিয়ন্ত্রনে। কৌশলে বাজেট ও হিসাব বিভাগের তত্ত্বাবধানে আভ্যন্তরীন নিরীক্ষা বিভাগটিকেও সু-পরিকল্পিতভাবে নিজের এবং বিভিন্ন বিল পাসের সুবিধার্থে নিজের কাছে রেখেছেন। অপরদিকে তাঁর নিয়ন্ত্রানাধীন কর্মী ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীকে ফাঁসিয়ে অভিযুক্ত করে হয়রানী করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর অর্থের বিনিময়ে তার নিয়ন্ত্রণে থাকা শৃঙ্খলা ও আপিল মহাবিভাগ থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নাম মাত্র তদন্তের মাধ্যমে খালাস দেওয়া হয়। অন্যথায় হয়রানীরে মাত্রা দ্বিগুণ বাড়িয়ে সাময়িক বরখাস্তের মাধ্যমে প্রত্যন্তঅঞ্চলে বদলী করা হয় এবং বিভাগীয় মোকাদ্দমার মাধ্যমে চুড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়।
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের আরেকজন মহাব্যবস্থাপক রয়েছেন, যার মাম মোঃ আলা উদ্দিন। সৌভাগ্যক্রমে বা বৈষমের স্বীকার কোনটা বললে পাঠকদের সুবিধা হবে সেটা বলা না গেলেও এই ব্যাক্তি ব্যাংকের গুরুত্বহীন ২টি বিভাগের দায়িত্ব পেয়েছেন। ব্যাংকের ৯টি বিভাগের ৭টিই অপরজনের দখলে থাকায় তিনি ব্যস্ত থাকেন এ দুটি বিভাগ নিয়ে।
গুরুত্বর অভিযোগ রয়েছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের অদক্ষ সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার রফিকুল ইসলাম প্রেষণে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় মহাব্যবস্থাপক এ. বি. এম জাহিদ হোসেন বিপুল অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের গৃহ নির্মাণ অগ্রিম ঋণ নীতিমালা ২০২৩’ এর শর্তাবলী লঙ্ঘন করে এবং নূন্যতম যোগ্য না হয়েও গৃহ নির্মাণ অগ্রিম ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে।
এ ব্যাংকের ভিতর-বাহির রন্ধ্রে রন্ধ্রে এত দুর্নীতি হয়েছে যে, উপরে তথ্য-প্রমাণাদি প্রমান করে ব্যাংকের কি দূরবস্থা! এ প্রতিবেদনে যতটুকু দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তা খুবই নগণ্য, মহাসাগরের এক বিন্দু জলের বিবেচনায়ও সমান নয়। যে উদ্দেশ্যে এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হয়েছে সে লক্ষ্য অধরাই থেকে যাবে শুধুমাত্র কিছু দুর্বৃত্ত ও দুষ্কর্ম কর্মকর্তা ছাড়া।
তাই এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক-এ কর্মরত বৈষমের স্বীকার সর্বস্তরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের ন্যায্য অধিকার, পারফর্মেন্স বিবেচনা করে ব্যাংকের ঋণ সুবিধাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেতে অন্তর্বতীকালীন সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।


















