নতুন করে সারজিস-মারজিসের ঐক্যের ডাক ‘বাহানা’: ইবি প্রো-ভিসি


নতুন করে সারজিস-মারজিসের ঐক্যের ডাক ‘বাহানা’: ইবি প্রো-ভিসি

ইবি প্রো ভিসি


কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেছেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমানের ১৯ দফার শেষ দফাটা হলো ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণ করা এবং জাতীয় ঐক্য সংহতি তৈরি করা। জিয়াউর রহমান তাঁর জীবদ্দশায় বলে গেছেন কিভাবে জাতীয় ঐক্য করতে হয় আর নতুন ওই সারজিস-মারজিস ঐক্যের ডাক যে দেয় এগুলো বাহানা। শহীদ প্রেসিডেন্ট তো ঐক্যের কথা তখন বলেই গেছে। এখন ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্য থাকবো আমরা।’

মঙ্গলবার (২৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জিয়া পরিষদ ও ইউট্যাবের উদ্যোগে শহীদ জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন তিনি। সেমিনারে ‘শহীদ জিয়া’র ১৯ দফা কর্মসূচি এবং প্রাসঙ্গিকতা’ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

১৯ দফার গুরুত্ব প্রসঙ্গে প্রো ভিসি বলেন, ‘পবিত্র কোরআনের প্রতিটি সুরার প্রথমে বিসমিল্লাহ লেখা, আর বিসমিল্লাহ লিখতে গুনে দেখেন ১৯ টা শব্দই লাগে। সবকিছুতেই ১৯ শব্দটার হিসেব খুঁজে পাবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ জিয়া ঘোষিত ১৯ দফা হলো আঠারো কোটি মানুষের মুক্তির সনদ। এই ১৯ দফার মূলমন্ত্র হলো- যে জাতি নিজের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে না আল্লাহ তার ভাগ্য পরিবর্তন করেন না। যেটা হাদিসেও বর্ণিত আছে। প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন লন্ডনে একটি সেমিনার শুরু হলে সেখানে সব পবিত্র গ্রন্থ থেকে পাঠ করা হলেও কুরআন পাঠ না হওয়ায় জিয়াউর রহমান প্রতিবাদ করেছিলেন। কেন পাঠ করা হলো না জিজ্ঞেস করেছিলেন। তারপরে কুরআন পাঠ করা হয়। এতে বোঝা যায় তিনি ধর্মপ্রাণ ছিলেন। তার আদর্শ ছিলো ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমরা বাংলাদেশি। ১৯ দফা ক্ষুধিত, নিপীড়িত, নির্যাতিত মানুষের কথা বলে। দেশ হোক ১৯ দফার, উন্নয়ন হোক ১৯ দফার, আমরা সবাই ১৯ দফার।’

প্রো ভিসি এয়াকুব আলী বলেন, ‘জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি উজ্জীবিত ও উদ্দীপ্ত হয়েছেন তাদের লেখায় জিয়ার প্রশংসা করেছেন। এদের মধ্যে অন্যতম কয়েকজন হলেন তাজউদ্দীন আহমেদ ও ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম (মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি), এইচ টি ইমাম (বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১), অধ্যাপক আনিসুজ্জামান (আমার একাত্তর), ভারতীয় কূটনীতিক জে এন দীক্ষিত, ট্রেভর ফিসলক ও ডেভিড লুডেন (মাহফুজউল্লাহ, প্রেসিডেন্ট জিয়া অব বাংলাদেশ, এডর্ন পাবলিকেশন-২০১৬)। জিয়াই হলেন বাংলাদেশের একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা রণাঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে যার ছবি কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম মিউজিয়ামে অমর কীর্তি হিসেবে সংরক্ষিত।’

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউট্যাব সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহা. তোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড এম এয়াকুব আলী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া মূখ্য আলোচক হিসেবে জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, আলোচক হিসেবে ইবি জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ফারুকজ্জামান খান, প্রবন্ধ উপস্থাপক হিসেবে ইউট্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এ.কে.এম মতিনুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এসময় জাতীয়তাবাদী বিভিন্ন সংগঠন, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্রদল নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

 

Ads