মালয়েশিয়ায় বিনামূল্যে ১০ হাজার শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ: শ্রমমন্ত্রী

মুহাম্মদ ইসমাইল হাসান

০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম


মালয়েশিয়ায় বিনামূল্যে ১০ হাজার শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ: শ্রমমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রাথমিকভাবে এই ১০ হাজার শ্রমিক বিনামূল্যে পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হবে।

রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর আগে দেশটির নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিশ্চিত করার পর মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা বাংলাদেশে এসে নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক বাছাই করবেন।

তিনি বলেন, প্রথম ধাপে মালয়েশিয়া ১০ হাজার শ্রমিক নেবে। এই ১০ হাজার শ্রমিক দিয়েই বিনামূল্যে শ্রমিক পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাত থেকে শ্রমিকের চাহিদা পাওয়ার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং অনুমোদিত অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো হবে।

শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, শুধু শ্রমিক পাঠানোই সরকারের লক্ষ্য নয়; মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে হবে। প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রমিক পাঠানো হলে সেখানে গিয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। তাই নিয়োগদাতাদের চাহিদা আগে নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সরকার চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শ্রমিক প্রস্তুত করতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা বাংলাদেশে এসে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক নির্বাচন করবেন। নির্বাচিতদের পরবর্তী ধাপে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে।

এ প্রক্রিয়ায় বোয়েসেলের পাশাপাশি অনুমোদিত অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সিকেও যুক্ত করা হবে। তবে শ্রমিক পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো চূড়ান্ত করা প্রয়োজন বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। শ্রমিকদের মেডিকেল পরীক্ষার প্রক্রিয়াও এখনো অনুমোদন পায়নি। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে শ্রমিকের চাহিদা ও অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

এর আগে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের অভিযোগ এবং শ্রমিক হয়রানির বিষয়টি সামনে এসেছিল। এবার এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান আরিফুল হক চৌধুরী। তাঁর মতে, মালয়েশিয়ার চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানোর মাধ্যমেই প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিতে হবে।

এদিকে বিদেশে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে চাকরির সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি বছরেই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার চালু করা হবে।

এই সেন্টারের মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইন—দুই পদ্ধতিতে চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীর চাহিদার তথ্য নিয়ে একটি ডাটাবেস তৈরি করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্প খাতে শ্রমিক ও কর্মচারীর চাহিদা নির্ধারণ এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে জব ফেয়ার ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী খোঁজার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ছাড়া চলতি মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলেও জানান শ্রমমন্ত্রী।

Ads