ইবিতে শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

নজরুল ইসলাম

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:০৩ পিএম


ইবিতে শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

অভিযুক্ত রতন রায় ও রিহাব রেদোওয়ান।

 

সলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে শ্বাসরোধ ও চোখ-মুখ বন্ধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে অন্য দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু জাহেদ। গত বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটায় ক্যাম্পাস থেকে কুষ্টিয়া গমনের সময় বাসের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী।

 

অভিযুক্তরা হলেন উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রতন রায় ও রিহাব রেদোওয়ান। তারা উভয়ই শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ও সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতের অনুসারী বলে জানা গেছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার  ক্যাম্পাস থেকে কুষ্টিয়ায় যাওয়ার জন্য দুপুর তিনটার বাসে উঠে ভুক্তভোগী। সে একটা সিটে বসা ছিল তারপাশে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রতন বায় বসা ছিল। পরে রতন নিচে গিয়ে কয়েকজন বন্ধ-বান্ধবী নিয়ে পুনারায় সিটে বসতে আসে। এসময় সে ভুক্তভোগীকে পাশের সিটে সরে যেতে বললে সে এতে অস্বীকৃতি জানায়। এসময় উভয়ের মাঝে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রতন তার গলাটিপে ধরে রাখে। সেই সাথে তার বন্ধু রিহাব রেদোওয়ান তার চোখে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দেয়। পরে বাসের সবাই চিল্লাচিল্লি করে তাকে ছাড়িয়ে নেয়। এভাবে আর ৯ বা ১০ সেকেন্ড থাকলে মারা যেতাম বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে রতন রায় বলেন, "যেসব  অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। যদি তার গলাটিপে বা চোখ আঙ্গুল দেওয়া হতো তাহলে সেটার চিহ্ন থাকার কথা। অভিযোগের সত্যতার বিষয়ে সে প্রমাণ দেখাতে পারবে?"

 

আরেক অভিযুক্ত রিহাব রেদোওয়ান বলেন, "তার এসব অভিযোগের কোন সত্যতা নেই। মূলত বাসের পিছনের সিটে দুইটি মেয়ে বসা ছিল, সে দুইজনের মাঝখানে বসা ছিল। তাই আমরা তাকে ওপাশে সরে যেতে বললাম। একপর্যায়ে তার সাথে আমাদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি খারাপ পর্যায়ে চলে যাবে ভেবে আমি তাকে গলার কলার ধরে বাসে উপর তলায় পাঠিয়ে দিই।"

 

ভুক্তভোগী আবু জাহেদ বলেন, "ওরা বাসে উঠে আমাকে সরে যেতে বললে আমি অস্বীকৃতি জানাই। একপর্যায়ে তারা আমার গলাটিপে ধরে, মুখ ও চোখে হাত দিয়ে ধরে রাখে। এভাবে প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে আমাকে শ্বাসরোধ অবস্থায় রাখে। আমার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।"

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, "অভিযোগ পেয়েছি। সার্বিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ দুপুর সাড়ে ১২ টায় মিটিং আছে। সেখানে এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।"

 

 

Ads