রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তা উচ্চ মাত্রায় রাখার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অয়ন আহমেদ

০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১২ পিএম


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তা উচ্চ মাত্রায় রাখার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা আগের মতো উচ্চ পর্যায়ে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ইন্ডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার (আইআইএমএম)-এর প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক সহায়তা দিন দিন কমে আসছে। এতে বাংলাদেশ বাড়তি চাপের মুখে পড়ছে। মানবিক কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তার মাত্রা কমিয়ে না এনে তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আইআইএমএমের দল কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে প্রায় দুই শতাধিক ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে।

কৌমুজিয়ান বলেন, এসব সাক্ষাৎকার থেকে পাওয়া তথ্য ও অন্যান্য প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আইআইএমএমের তদন্ত শুধু ২০১৭ সালের ঘটনাগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারে বেসামরিক জনগণের ওপর সংঘটিত সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

বৈঠকে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির নেওয়া পদক্ষেপ এবং সীমান্ত পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে মাঠপর্যায়ের বিজিবি কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করার আগ্রহ প্রকাশ করে আইআইএমএম দল। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াবে। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রেও রায়টি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Ads