খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সুপারিশ


খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সুপারিশ

খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে রোগী ও দর্শনার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন, নিরাপদ পানীয় জল, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ওষুধের তথ্য প্রকাশ, রোগীদের খাবার এবং তথ্য ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের উদ্যোগে হাসপাতাল পরিদর্শনের পর চিহ্নিত বিষয়গুলো নিয়ে বুধবার (৭ অক্টোবর) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়। ‘স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে চাই সমতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণ’ প্রতিপাদ্যে জাবারাং কল্যাণ সমিতির আয়োজনে এবং বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের সহযোগিতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, গত ১০ জুন জেলা স্বাস্থ্য অধিকার যুব ফোরামের একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতাল পরিদর্শন করে। ওই সময় রোগীসেবা, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি, ওষুধের প্রাপ্যতা ও তথ্যপ্রদর্শন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, অভিযোগ গ্রহণ এবং রোগী ও দর্শনার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

পরিদর্শনে পাওয়া পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া সুপারিশে টয়লেট, ওয়াশরুম, ওয়ার্ড, সিঁড়ি ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দৈনিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার চেকলিস্ট প্রণয়ন ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের মাধ্যমে তা তদারকির প্রস্তাব দেওয়া হয়।

মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য পৃথকীকরণ, সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও নিরাপদ নিষ্পত্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের সুপারিশ করা হয়েছে। রোগী ও দর্শনার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং পানির উৎস নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

ওষুধের ক্ষেত্রে হাসপাতালে প্রাপ্ত ওষুধের তালিকা এবং বর্তমান মজুদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করে রোগী ও সাধারণ মানুষের সহজে দেখার উপযোগী স্থানে প্রদর্শনের সুপারিশ করা হয়।

রোগীদের খাবারের বিষয়ে দৈনিক বা সাপ্তাহিক মেনু দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন, খাবার ঢেকে পরিবেশন এবং প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের প্রতিটি ধাপে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযোগ বাক্সে জমা পড়া অভিযোগ নিয়মিত খোলা, রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ ও পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং একটি কার্যকর তথ্য বা হেল্প ডেস্ক চালুর সুপারিশ করা হয়। নাগরিক সনদ, সেবার তালিকা, সেবাপ্রাপ্তির পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগের তথ্যও নিয়মিত হালনাগাদ করার কথা বলা হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি সাধন কুমার চাকমা। ফোরামের পক্ষ থেকে সুপারিশগুলো হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রিপল বাপ্পি চাকমার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ সময় জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সহ-সভাপতি মিনুচিং মারমা ও অংপ্রু মারমা, নির্বাহী সদস্য প্রমোদ বিকাশ ত্রিপুরা, কিশলয় তালুকদার ও মনচুর আলম, কো-ফোকাল পারসন পূর্ণ বিকাশ ত্রিপুরা, জেলা স্বাস্থ্য অধিকার যুব ফোরামের সমন্বয়কারী দহেন বিকাশ ত্রিপুরা এবং তথ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক খোকন বিকাশ ত্রিপুরাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব বিষয়কে কোনো ধরনের অভিযোগ হিসেবে নয়, বরং হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে গঠনমূলক সুপারিশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। নিয়মিত তদারকি, দায়িত্ব বণ্টন এবং বিদ্যমান সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে চিহ্নিত বিষয়গুলোর উন্নয়ন সম্ভব বলেও মত দেওয়া হয়।

Ads