৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল পানামা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২০ এএম


৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল পানামা

ছবি: সংগৃহীত

মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশ কয়েকটি সড়ক ধসে পড়ায় ব্যাহত হয়েছে যোগাযোগব্যবস্থা। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে তিনটি প্রদেশ সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী পানামা সিটি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে হেরেরা প্রদেশের পিতালেজো আরিবা এলাকায়। ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১২ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হওয়ায় কম্পন ছিল তীব্র।

প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৮ দশমিক ০ বলে ধারণা করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৭ দশমিক ৭ নির্ধারণ করে ইউএসজিএস। দেশটির জরুরি পরিষেবা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রায় এক মিনিট ধরে কম্পন অনুভূত হয়। পানামার প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ এই ভূমিকম্পের প্রভাব অনুভব করেছেন।

মূল ভূমিকম্পের পর দেশটিতে ৮০টিরও বেশি পরাঘাত রেকর্ড করেছে ভূ-বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট। এসব পরাঘাতের মধ্যে একটির মাত্রা ছিল ৬-এর বেশি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, রাজধানী পানামা সিটির বহুতল ভবন থেকে আতঙ্কিত মানুষ দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসছেন। ২০ তলার বেশি উঁচু একটি ভবনের ছাদের সুইমিং পুল থেকে পানি নিচে পড়ে যাওয়ার দৃশ্যও ভিডিওতে দেখা গেছে। আরেকটি ভিডিওতে পানামা খালের ওপর একটি সেতু তীব্রভাবে কাঁপতে দেখা যায়। তবে যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলেও সেতুটি অক্ষত ছিল বলে ভিডিওতে দেখা গেছে।

ভূমিকম্পের পর পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো বলেন, দেশটি বড় ধরনের দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সড়ক ধসে পড়ায় যোগাযোগ অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফার্নান্দো বয়েড জানিয়েছেন, হেরেরা, কোকলে ও লস সান্তোস প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় লস সান্তোস প্রদেশের টোনোসি শহরটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থলপথে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় আকাশপথে যাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

ভূমিকম্পের পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পানামা সিটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এ সময় কয়েকটি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ভূমিকম্পের পর পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। পানামা খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত পানামার পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়া, ইকুয়েডর ও গুয়াতেমালা। দেশগুলো পানামা সরকারকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।

Ads