ইজিবাইকে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের পরিকল্পনা সরকারের: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

মুহাম্মদ ইসমাইল হাসান

০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম


ইজিবাইকে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের পরিকল্পনা সরকারের: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

ইজিবাইকে প্রচলিত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবর্তে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবহার সাশ্রয়, পরিবেশদূষণ কমানো এবং চালকদের আয় বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছে সরকার। নতুন এ প্রযুক্তি ব্যবহারে একবার চার্জে ইজিবাইক ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার চলতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় যশোরের সিসিটিএসের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যশোর জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজধানীর উত্তরখানে ইজিবাইকে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু করেছে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)। এ প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন ব্যাটারির কার্যকারিতা, ব্যবহারিক সুবিধা ও সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। পরীক্ষার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা গেলে একবার চার্জে দীর্ঘ পথ চলার পাশাপাশি চালকদের দৈনিক আয় প্রায় ২০০ টাকা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং পরিবেশদূষণ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

দেশের শহর ও শহরতলির যোগাযোগব্যবস্থায় ইজিবাইকের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বল্প দূরত্বে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে এসব যানবাহন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা, চার্জের খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণ চালকদের জন্য বড় বিবেচ্য বিষয়। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এসব ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

দেশীয় কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আমদানি করা কয়লার পরিবর্তে দেশের ভূগর্ভে থাকা কয়লা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। তবে এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশীয় কয়লা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে উত্তোলন ব্যয়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।

বাপার যশোর জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আজিজুল হক মনি। সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বাপার কেন্দ্রীয় কমিটির নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল আহমেদ, যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক হক সাবুসহ অন্যরা। 

Ads