মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয় ও কুসংস্কার দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে সমাজে প্রচলিত ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সুস্থতার অর্থ শুধু শারীরিকভাবে ভালো থাকা নয়; এর সঙ্গে মানসিক, আত্মিক ও সামাজিক সুস্থতাও জড়িত।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবসটি পালিত হবে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দৃশ্যত স্বাস্থ্যবান অথবা নীরোগ থাকাটাই স্বাস্থ্য নয়, বরং শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকার নামই স্বাস্থ্য। সুতরাং, কোনোভাবেই মানসিক স্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।’
মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি শুধু চিকিৎসার বিষয় নয়; মানুষের মর্যাদা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত কাউকে অবহেলা বা বিচ্ছিন্ন না করে তাঁর কথা শোনা, পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার পথ সহজ করা জরুরি।
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Lived experiences heard: real voices, real change’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার মধ্য দিয়ে যাঁরা জীবনযাপন করছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা এবং সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করাই প্রকৃত পরিবর্তনের পূর্বশর্ত।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও বাণীতে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছাতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা, টেলি-কাউন্সেলিং সম্প্রসারণ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সরকারি হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে।
পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য, শিশু-কিশোরদের সুস্থতা এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তরিকতার সঙ্গে মনোযোগ দিয়ে মানুষের কথা শুনুন, সহমর্মিতার সঙ্গে পাশে দাঁড়ান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকুন।’
একটি কল্যাণমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকার, স্বাস্থ্য পেশাজীবী, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে কেউ সংকোচ বোধ করবেন না, সহায়তা চাইতে লজ্জা পাবেন না এবং নিজেকে একা বা অবহেলিত মনে করবেন না।
বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও বিশ্বের সব মানুষের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন এবং বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য প্রত্যাশা করেন।































