মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের ঘনঘটা
ইরানে যেকোন সময় যৌথ হামলা, প্রস্তুত ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু
০১ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে ফের চরম উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও রিফাইনারিসহ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে চলতি সপ্তাহান্তেই এক ব্যাপক সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এতে চূড়ান্ত অনুমোদন না দিলেও আন্তর্জাতিক অর্থবাজার আগামী সোমবার (৩ আগস্ট) খোলার আগেই এই যৌথ মিশন শেষ করার বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে জোর আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি ক্যাম্প ডেভিডে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা বৈঠকে সামরিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা তাদের ওপর খুব তীব্র আঘাত হানব এবং একপর্যায়ে তারা বলবে যে আমরা আর এটি সহ্য করতে পারছি না।” আন্তর্জাতিক বাজার যেন এই হামলায় মারাত্মকভাবে অস্থির না হয়, সে কারণেই সপ্তাহান্তের সময়টিকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
সংকটময় এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন তাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার করেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট এক সংবাদ সম্মেলনে জোর দিয়ে জানান যে, যেকোনো পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জয় হবে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। একই সুর মিলিয়ে পেন্টাগনের মুখপাত্র শিন পারনেল জানিয়েছেন, তাদের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে বিস্তারিত কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ (ডব্লিউএসজে)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ক্যাম্প ডেভিডের বৈঠক থেকেই এই নতুন হামলার সবুজ সংকেত এসেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতির পথ খুললে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিতও করতে পারেন। অন্যদিকে সিবিএস নিউজকে এক ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাঁরা এখনও শতভাগ নিশ্চিত নন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এমন কঠোর অবস্থানের মুখে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরানও। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসন হলে তার তীব্র ও ধ্বংসাত্মক জবাব দিতে ইরান ইতোমধ্যে একটি বিস্তারিত পাল্টা হামলার রূপরেখা তৈরি করে রেখেছে।
ইরানি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির ওপর কোনো ধরনের সামরিক আঘাত এলে তারা বসে থাকবে না। যৌথ বাহিনীর হামলার জবাবে তারা ইসরায়েল এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবকাঠামোসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাসমূহে সরাসরি পাল্টা আঘাত হানবে। ফলে এই সংঘাত শুরু হলে তা পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক ভয়াবহ অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
























