ভারতে রাজনীতির অনুমতি পাচ্ছেন না শেখ হাসিনা: সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট
০১ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৬ এএম
ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে সেখান থেকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন রূপরেখা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্টে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে।
পেশ করা ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দুই দেশের বর্তমান কূটনৈতিক বাস্তবতা, গঙ্গা পানি চুক্তি, ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিকীকরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে বিস্তারিত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে কৌশলগত ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নতুন প্রেক্ষাপটে সম্পর্ক গভীর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনাকে যে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনায় এবং দীর্ঘদিনের প্রচলিত নীতির অংশ হিসেবেই দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে অবস্থানকালীন তিনি কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ ব্যবহার বা রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারবেন না। অন্যদিকে তাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে অনুরোধ জানানো হয়েছে, সেটি প্রচলিত আইন ও দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা সুবিধা দ্রুত স্বাভাবিক করার জোর সুপারিশ করা হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে ভিসা প্রক্রিয়া সীমিত রাখার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গতি শ্লথ হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। নিরাপত্তা রক্ষা করে দ্রুত ভিসা ব্যবস্থা সহজ করে দুদেশের মানুষের যোগাযোগ ও আস্থার পথ সুগম করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালেই ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি চুক্তির ৩০ বছর মেয়াদ পূর্ণ হতে চলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসার প্রেক্ষাপটে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত কূটনৈতিক পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করা জরুরি। নদীর পানির গতিপথ ও পরিবেশগত পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে নয়াদিল্লিকে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর সাথে সমন্বয় করে ঢাকার সঙ্গে আলোচনা শুরুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষায় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ঐতিহাসিক সংযোগ এবং পারস্পরিক মর্যাদাবোধ বজায় রাখার ওপর বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলা হয়।
প্রতিবেদনে অঞ্চলে অন্যান্য শক্তির ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তসংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন কৌশলগত প্রকল্পে বহিরাগতদের যুক্ততা নিরাপত্তার জন্য সংবেদনশীল বিষয় বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কারণে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিবেশীদের তৎপরতা ও বৈদেশিক গতিবিধি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
























