খাগড়াছড়িতে এসএসসিতে পাস ৩৭.০৪%, চার প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি


খাগড়াছড়িতে এসএসসিতে পাস ৩৭.০৪%, চার প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি

 

খাগড়াছড়ি জেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফলে স্কুল ও মাদ্রাসা মিলিয়ে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ০৪ শতাংশ। স্কুল ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ৮ হাজার ৫৪৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩ হাজার ১৬৬ জন। জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১৯৬ জন।

জেলার বিভিন্ন স্কুল থেকে এবার ৭ হাজার ৭৭৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২ হাজার ৭৬৬ জন। স্কুল পর্যায়ে পাসের হার ৩৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯০ জন।

মাদ্রাসা থেকে ৭৬৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৪০০ জন। মাদ্রাসা পর্যায়ে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ছয়জন।

স্কুল পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি পাসের হার মানিকছড়িতে—৪০ দশমিক ২১ শতাংশ। এরপর রামগড়ে ৩৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ, লক্ষ্মীছড়িতে ৩৪ দশমিক ১৯ শতাংশ, মাটিরাঙ্গায় ৩২ দশমিক ১৮ শতাংশ, পানছড়িতে ৩১ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং গুইমারায় ৩১ দশমিক ১২ শতাংশ। সবচেয়ে কম পাসের হার দীঘিনালায়—২২ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

মাদ্রাসা পর্যায়ে গুইমারায় পাসের হার সর্বোচ্চ—৬২ শতাংশ। মানিকছড়িতে ৫২ দশমিক ৬৯ শতাংশ, মাটিরাঙ্গায় ৪৩ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং পানছড়িতে ৪১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

এসএসসি-২০২৬-এর ফলাফলে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ভাইবোনছড়া গার্লস হাই স্কুল, জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাই স্কুল, তারাবানিয়া হাই স্কুল এবং মাটিরাঙ্গা ১০ নম্বর সেন্ট প্যাট্রিক আলুটিলা জুনিয়র হাই স্কুল। প্রথম তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৪২ জন এবং চতুর্থ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়।

এদিকে খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩০ জন এবং খাগড়াছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৯৭ জনের মধ্যে ১৭২ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সিকদার জানান, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৯ হাজার ৯৬৫ জন। চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি।

খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরণ চাকমা বলেন, দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোর ফলাফলে সচেতনতার ঘাটতি, অভিভাবকদের আর্থিক সংকট ও শিক্ষক সংকটের প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পাহাড়ি এলাকায় ভবিষ্যতে শিক্ষার ফল ভালো করতে এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

Ads