ঝিনাইদহে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়া কলেজছাত্র সোহানুরের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার
২০ এপ্রিল ২০১৬, ০২:২৩ পিএম
প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক :: ঝিনাইদহের কালিগঞ্জে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর এবার কলেজছাত্র সোহানুর রহমান সোহানেরও গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত সোহানুর কালীগঞ্জের ঈশ্বরা গ্রামের মহাসিন আলীর ছেলে ও স্থানীয় শহিদ নূর আলী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র।
নিখোঁজের ১২ দিন পর আজ বুধবার সকালে চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার বুলকিয়া চন্দতলা মাঠে সোহানুরের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেছে। সকাল ৭টার দিকে কৃষকেরা মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। সোহানুরের খালাতো ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন লাশ সনাক্ত করেন।
এর আগে গত ১০ এপ্রিল বিকেল ৫ টার দিকে ঈশ্বরবা জামতলা নামক স্থানে তার মায়ের জন্য অপেক্ষা করছিলো সোহানুর। এ সময় নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে চারজন লোক বাইকে করে জোরপুর্বক তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে তার পরিবারের অভিযোগ।
সোহানুর রহমানের মা পারভীনা বেগম বলেন, তার ছেলে সোহান কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। সে পড়ালেখা করে। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৩১ পেয়েছে। এরপর কালীগঞ্জ শহরের শহিদ নূর আলী কলেজে ভর্তি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সোহানুর রহমানের বাবা ঢাকায় থাকেন। তার দুই ছেলে এক মেয়ে। সোহানুরের সন্ধান দাবিতে গত ১৭ এপ্রিল ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেছিল সোহানুরের পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে সোহানুরের বাবা বলেছিলেন, আমার ছেলে কোন রাজনীতি করে না। ছেলের সন্ধানে রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের দারস্থ হয়ে আমি ক্লান্ত। সবাই আমাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে। সোহানের মা অসুস্থ। ছেলের শোকে আরো অসুস্থ হয়ে পেড়েছে।
এদিকে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, সোহান নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তার কাছে পরিবারটির পক্ষ থেকে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।
এনিয়ে গত এক মাসে ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রাম থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ৩ জন কলেজ ছাত্রকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর সবারই গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেছে। এর আগে, গত ১৮ মার্চ দুপুরে চাপালী গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে যশোর এম.এম কলেজের অনার্সের ছাত্র আবুজার গিফারী (২২) কে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর ২৪ মার্চ বিকালে একই উপজেলার বাকুলিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজের অনার্সের ছাত্র শামীম হোসেনকে (২০) নিয়ে যাওয়া হয়।
গত ১২ এপ্রিল দুই জনেরই গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেছে।

















