ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরল ৪০২ প্রাণ: শীর্ষে মোটরসাইকেল, বেড়েছে দুর্ঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ জুন ২০২৬, ১০:০২ এএম


ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরল ৪০২ প্রাণ: শীর্ষে মোটরসাইকেল, বেড়েছে দুর্ঘটনা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহার ঈদযাত্রায় সারা দেশে সড়কে ঝরেছে ৪০২টি তাজা প্রাণ। গত ২১ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনে দেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ২৯৪ জন। নিহতদের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশেরই মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়।

গতকাল রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন।

একই সময়ের দুর্ঘটনার হিসাব নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যানে অমিল দেখা গেছে। বেসরকারি সংগঠন 'রোড সেফটি ফাউন্ডেশন'-এর হিসাবে ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ১৩ দিনে ২৯২টি দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠান 'বিআরটিএ'-র হিসাবে একই সময়ে ২০৭টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৪১ জন। তবে অন্য দুই সংস্থার তুলনায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে।

২০২৫ সালের ঈদুল আজহার তুলনায় এবার ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা ৩.৯৫%, নিহতের সংখ্যা ৩.৭% এবং আহতের সংখ্যা ৯.৪৭% বেড়েছে। গত বছর ১৫ দিনে ৩৭৯টি দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত ও ১,১৮২ জন আহত হয়েছিল।

এছাড়া, এবারের ঈদযাত্রায় রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন এবং নৌ-পথে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বরাবরের মতোই এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত ও ১৮০ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮.৮৩ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় পতিত যানবাহনের হার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ২৮.৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলে। এরপর ২১.৪০ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ১৬.৫৬ শতাংশ বাস, ১২.৩৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৭.৮১ শতাংশ কার ও মাইক্রোবাস, ৬.৫৬ শতাংশ নছিমন-করিমন এবং ৬.৪০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুর্ঘটনায় পড়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে ৮০ জন চালক, ৮৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৯ জন পথচারী, ৬৪ জন নারী, ৪৫ জন শিশু এবং ৬৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এছাড়া ৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৩ জন শিক্ষক, ১ জন চিকিৎসক, ৩ জন সাংবাদিক, ১ জন প্রকৌশলী এবং ৪ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়কে এই মৃত্যুর মিছিলের জন্য ৮টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে- ১. জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল। ২. রোড সাইন ও সড়কবাতি না থাকায় ফিডার রোড থেকে হঠাৎ যানবাহন উঠে আসা। ৩. উল্টোপথে যানবাহন চালানো ও সড়কে চাঁদাবাজি। ৪. পণ্যবাহী যানবাহনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রী পরিবহন। ৫. অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অতিরিক্ত যাত্রী বহন। ৬. বেপরোয়া গতি ও চালকদের বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালানো। ৭. বৃষ্টিতে সড়কের মাঝে গর্তের সৃষ্টি হওয়া ও ভাঙাচোরা সড়ক।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতি ১০ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- উন্নত বিশ্বের আদলে আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, জাতীয় মহাসড়কে ফুটপাতসহ সার্ভিস লেনের ব্যবস্থা করা, কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং চালকদের নির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা।

 

Ads