মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে UNFPA প্রতিনিধির সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম


মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে UNFPA প্রতিনিধির সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

হিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (UNFPA) কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ Catherine Breen Kamkong।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, নারী শিক্ষা, জেন্ডার সমতা, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক সহিংসতা, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (MCBP), ডিএনএ ল্যাব, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশুশ্রম নিরসন, অনলাইন প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী UNFPA-কে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে সংস্থাটির সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতেও নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সুরক্ষায় UNFPA-এর উন্নয়ন ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন অত্যাধুনিক ডিএনএ ল্যাবরেটরির কার্যক্রম সম্পর্কে UNFPA-এর প্রতিনিধিকে অবহিত করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং নারী ও শিশুদের আইনি সুরক্ষা আরও জোরদার করতে সরকার পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় পর্যায়ে ডিএনএ ল্যাবের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে।

এ কার্যক্রম দ্রুত ও সফলভাবে বাস্তবায়নে UNFPA-এর কারিগরি ও জ্ঞানগত সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী। জবাবে UNFPA-এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী আরও জানান, বাল্যবিবাহসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এসব ক্লাবের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন ও সচেতনতা তৈরি হচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে Catherine Breen Kamkong বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারী অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন।

তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণভাবে দূর করতে স্থানীয় ধর্মীয় নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় আসন্ন ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ এবং এ উপলক্ষে ১৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন UNFPA-এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ। মন্ত্রী দিবসটির কর্মসূচি শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে জেলা ও তৃণমূল পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাতের শেষ পর্যায়ে তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী ও হস্তশিল্প পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নারী উদ্যোক্তাদের আধুনিক বিপণন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।

Ads