ভারতের সঙ্গে বিগত সরকারের ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
বিগত সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি বর্তমানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে সরকার। এতে বন্দর ব্যবহারসহ দ্বিপক্ষীয় নানা স্পর্শকাতর চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অতি দ্রুত এই পর্যালোচনার ফলাফল দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সম্প্রতি সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে চিফ হুইপের দপ্তর। এতে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির পাশাপাশি সরকারদলীয় অন্যান্য হুইপ উপস্থিত থেকে সরকারের নীতিগত অবস্থান ও প্রশাসনিক পদক্ষেপসমূহ ব্যাখ্যা করেন।পাশাপাশি বিগত সরকারের ঋণের বোঝা পরিশোধ, আইনি সংস্কার এবং জুলাই সনদ শতভাগ বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে বন্ধুরাষ্ট্রের জাহাজ চলাচলের মতো স্পর্শকাতর চুক্তি প্রসঙ্গে চিফ হুইপ স্পষ্ট করেন যে, দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে কোনো চুক্তি বহাল রাখা হবে না। কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণের বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশ প্রতিবেশীসহ সব দেশের সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক রাখতে চায়।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত পাঁচ মাসে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বিপরীতে ২০৫ কোটি মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও সরকারি অর্থের অপচয় রোধে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনি কাঠামো জোরদার করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনা ও বিগত আমলের অন্যায্য 'ক্যাপাসিটি চার্জ' দেওয়ার বিধান বাতিলের কঠোর সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরা হয়।
আইন প্রণয়ন ও সংসদীয় সংস্কারের অংশে চিফ হুইপ জানান, সদ্য সমাপ্ত ৯ কার্যদিবসের অধিবেশনে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী উল্লেখযোগ্য, যার মাধ্যমে বৃদ্ধ মা-বাবার সুরক্ষায় সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও আজীবন তা ভোগের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে কঠোর আইন পাস এবং স্থায়ী কমিটিগুলোতে বিরোধী দলের যৌক্তিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকার তুলে ধরে জানানো হয়, জুলাই সনদের প্রতিটি বিধান শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধনের পথেই সরকার এগোচ্ছে এবং জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রেখে একটি নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।





























