ঢাকা সিটি নির্বাচন
এনসিপিকে ছাড় দিবে না জামায়াত ও ১১ দলীয় ঐক্যের শরীকরা
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
জাতীয় নির্বাচনে একসাথে লড়লেও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) কোনো প্রকার ছাড় দিচ্ছে না জামায়াতে ইসলামী। আসন্ন এই নির্বাচনে দুই দলই আলাদাভাবে নিজেদের মেয়র প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি জোরদার করেছে। কেবল ঢাকা সিটি করপোরেশনই নয়, সারা দেশের স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচনে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১-দলীয় ঐক্য। দলীয় প্রতীকে ভোট না হওয়া এবং স্থানীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জটিলতার কারণে এই পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে পরস্পরের মুখোমুখি হলেও জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রেখে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে রাজপথে একসাথে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে সম্মত রয়েছে দলগুলো।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দলীয় ও রাজনৈতিক মহল সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানী সরকার নির্বাচন কেন্দ্র করে ১১-দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলোর এই অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:
১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের মতে, জোটটি মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত হয়েছিল। সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় নির্বাচনগুলো দলীয় প্রতীকে না হওয়ার কারণে জোটগতভাবে ভোট ভাগাভাগি বা আসন সমঝোতার সুযোগ থাকছে না। ভোটাররা কোনো প্রতিক দেখে নয়, প্রার্থীর যোগ্যতা ও পরিচিতি বিবেচনা করে রায় দেবেন। ফলে কেন্দ্র থেকে কোনো একক প্রার্থী চাপিয়ে না দিয়ে দলগুলোকে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী প্রার্থী দেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে ১১-দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন শরিকদের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা তুলে ধরা হলো:
জামায়াতে ইসলামী: ঢাকা উত্তর সিটিতে দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ডাকসুর সাবেক ভিপি মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সেলিম উদ্দিন মাঠে নামার পাশাপাশি সাদিক কায়েমও গণসংযোগ শুরু করেছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ঢাকা উত্তর সিটিতে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ চালাচ্ছেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ঢাকার দুই সিটিতে চারজন সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে কাজ করছে দলটি। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে দ্রুতই চূড়ান্ত দুজনের নাম প্রকাশ করা হবে।
এবি পার্টি: দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু জানিয়েছেন, এবি পার্টি থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ সারা দেশের অন্য সিটি করপোরেশনে আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া হবে।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি): স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি দলটি। এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী জানান, দলের সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠকের পর এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
যদিও কেন্দ্র থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে কোনো জোটগত সমঝোতা থাকবে না, তবুও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী দিতে না করা হবে না। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, স্থানীয় পর্যায়ে যদি শরিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে কোনো একক প্রার্থী দিতে পারে, তবে কেন্দ্র থেকে তাতে কোনো ধরনের বাধা থাকবে না। তবে এনসিপি সম্পূর্ণ এককভাবে লড়াইয়ের কৌশলে বিশ্বাসী হলেও জামায়াতের দাবি—যোগ্যতা ও মাঠপর্যায়ের জনপ্রিয়তায় তাদের প্রার্থীরাই এগিয়ে থাকবেন।
স্থানীয় নির্বাচনে মুখোমুখি অবস্থান নিলেও জাতীয় ইস্যুতে ১১-দলীয় ঐক্যের ঐক্য বজায় থাকবে। দলগুলোর দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটসহ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে শরিক দলগুলো রাজপথে একসাথে কর্মসূচি পালন করবে। নির্বাচন চলাকালে প্রার্থীরা যেন পরস্পরের সঙ্গে কোনো ধরনের সহিংসতায় না জড়ান, সে বিষয়েও ওপর মহল থেকে কঠোর মনিটরিং থাকবে। পাশাপাশি নির্বাচনে সরকারের হস্তক্ষেপ কিংবা কমিশন কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব দেখালে জোটবদ্ধভাবে তার প্রতিবাদ জানানো হবে।
নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল দেওয়ার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
আপনার পত্রিকাটির সম্পাদকীয় নীতিমালা অনুযায়ী কোনো বিশেষ পরিবর্তন বা আরও নতুন রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এতে যুক্ত করার প্রয়োজন আছে কি?





























