নিজস্ব ভাষায় শিক্ষা নিশ্চিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন মূলধারায় সম্পৃক্ত সম্ভব- আনোয়ার হোসেন

নয়ন তারা

২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪০ পিএম


নিজস্ব ভাষায় শিক্ষা নিশ্চিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন মূলধারায় সম্পৃক্ত সম্ভব- আনোয়ার হোসেন


‘পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকাকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হলে. অত্র অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিস্বত্ত্বার নিজস্ব ভাষায় শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে বললেন- এনজিও বিষয়ক ব্যুরো এর পরিচালক যুগ্মসচিব মো. আনোয়ার হোসেন।

আজ রবিবার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ক্রাউন প্লাজা হোটেলে ‘জাবারাং কল্যান সমিতি’-এর ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন- প্রত্যেক জনগোষ্ঠির জাতিগত ঐতিহ্য ধারন এবং লালন করতে হবে। ‘জাবারাং কল্যান সমিতি’ বিগত সময়ে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও যথারীতি এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে প্রত্যাশা রাখি।

আনোয়ার হোসেন আরো বলেন- আশাবাদির বিষয় হলো আগামীতে ‘এনজিও বিষয়ক ব্যুরো’ প্রান্তিক পর্যায়ের ছোট উন্নয়ন সংস্থার কথা বিবেচনা করে এনজিও ব্যুরোর নিবন্ধন ছাড়া ছোট স্থানীয় সংস্থাগুলি ডোনার ফান্ডেড প্রজেক্টের পার্টনার হিসেবে কাজ করতে পারবে। উল্লেখ্য, ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফান্ড নিয়ে কাজ করতে এনজিও ব্যুরোর অনুমোদন প্রয়োজন হবে না।”

প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করে তিন দশকে একটি স্বনামধন্য উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে ‘জাবারাং কল্যাণ সমিতি (জাবারাং)’। ১৯৯৫ সালে খাগড়াছড়ি জেলার খাগড়াপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়ে এই সংগঠনটির ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ক্রাউন প্লাজা হোটেলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য- প্রশান্ত কুমার ত্রিপুরা।

বিশেষ অতিথি ইউনেস্কো’র হেড অব এডুকেশন নোরিহিদে ফুরুকাওয়া জাবারাংয়ের এডুকেশন এবং এমএলই প্রোগ্রামের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধি কামনা করেন। বক্তারা জাবারাংয়ের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন, পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে উন্নয়ন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেয়ার প্রস্তুতি নেয়ার অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে পরিবেশিত হয় জাতীয় সংগীত ও পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এ সময় জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “জাবারাংয়ের এই ৩০ বছরের পথচলা মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার, ভাষা, শিক্ষা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ইতিহাস।”

অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় প্রামাণ্যচিত্র ‘জাবারাং এর ৩০ বছরের পথচলা’, যেখানে সংস্থাটির বহুভাষাভিত্তিক মাতৃভাষা শিক্ষা (MLE), টেকসই জীবিকা, যুব নেতৃত্ব বিকাশ, এবং স্বাস্থ্য ও নারী ক্ষমতায়নে অবদানের চিত্র তুলে ধরা হয়। উল্লেখ্য, মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালে জাবারাং-এর নির্বাহী পরিচালক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদকে ভূষিত হন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উন্মোচন করা হয় ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ ‘Roots to Impact’। ‘Roots to Impact: গত ৩০ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. হরি পূর্ণ ত্রিপুরা।

জাবারাংয়ের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর বিনোদন ত্রিপুরা’র সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনা পর্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনসিইউ প্রতিনিধি মো. তাজউদ্দিন, গণসাক্ষরতা অভিযানের তপন কুমার দাশ, প্লান ইন্টারন্যাশনালের ফারজানা মেহরিন, সেভ দ্য চিলড্রেন মেহেরুন নাহার স্বপ্না, হেডম্যান ও গ্রামীণ সাধারণ নেটওয়ার্কের (ভিসিএফ নেটওয়ার্ক) সভাপতি যুব লক্ষন চাকমা, নারী হেডম্যান এখিন চৌধুরী, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সমন্বয়কারী সঞ্জয় মজুমদার, সিডব্লিএফডি’র নির্বাহী পরিচালক ল্যাডলি ফায়েজ, বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ প্রতিনিধি মাসুদ আলম, উইভ সংস্থা’র নির্বাহী পরিচালক নাই ইউ প্রু মার্মা মেরী, দীঘিনালা ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর মো. মাইনউদ্দিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানস্থলে একটি বিশেষ প্রদর্শনী কর্নারে জাবারাং-এর ইতিহাসভিত্তিক আলোকচিত্র, প্রকাশনা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও কৃষিজ পণ্য প্রদর্শিত হয়। গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য ছিল আলাদা প্রেস কর্নার, যেখানে জাবারাং-এর ৩০ বছরের অর্জন নিয়ে তথ্যপত্র ও অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কেক কেটে জাবারাং কল্যাণ সমিতির ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়।
 

Ads