‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী ভাষা দশক’ উপলক্ষে জাতীয় পরামর্শসভা: আদিবাসী ভাষা সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:৪৪ পিএম
মঞ্চে উপবিষ্ট (বাম থেকে)- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মোছা: নূরজাহান খাতুন,, এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান একেএম রিয়াজুল হাসান, আমাই পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও গারো ভাষা বিশেষজ্ঞ বাঁধন আরেং।
আদিবাসী ভাষা সুরক্ষায় নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে ঢাকায় দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক আদিবাসী ভাষা দশক সম্মেলন ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনেস্কোর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (IMLI), জাবারাং এবং মালেয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই সম্মেলনে আদিবাসী নেতা, তরুণ প্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা ভাষার বৈচিত্র্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।

চিত্র: বক্তব্য রাখছেন ইউনেস্কো বাংলাদেশ এর প্রধান ড. সুসান ভাইজ।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- চাকমা সার্কেলের প্রধান ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়, মং সার্কেলের প্রধান রাজা- সাচিং প্রু চৌধুরী, বাংলাদেশ আদিবাসী জনগোষ্ঠী নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড বায়োডাইভারসিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক জিডিসন প্রাধান সুচিয়াং, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক- ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এবং ইউনেস্কো বাংলাদেশের প্রধান- ড. সুসান ভাইজ।

চিত্র: বক্তব্য রাখছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান একেএম রিয়াজুল হাসান।
সম্মেলনে- ভাষা সংরক্ষণ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা, প্যানেল সেশন ও মতবিনিময় হয়।
এ সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘Of Roots and Heritage: Tales from the Hills’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। ইউনেস্কোর Hooked-on Peace প্রকল্পের আওতায় প্রকাশিত এই বইটিতে বিভিন্ন আদিবাসী ভাষায় গল্প তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি আদিবাসী বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আদিবাসী লেখকদের সাহিত্যকর্ম প্রদর্শণ করা হয়।

চিত্র: বক্তব্য রাখছেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট'র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
আলোচকরা বলেন- ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভাষা সংরক্ষণ সম্ভব। ভাষা শেখা ও সংরক্ষণের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইন টুল ব্যবহারের পাশাপাশি গল্প বলা, কবিতা ও আদিবাসী গণমাধ্যমকে ভাষাগত ঐতিহ্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করার উপর জোর দেন আলোচকরা। জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় আদিবাসী ভাষার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও উঠে আসে আলোচনায়। ভাষা সুরক্ষায় নীতি নির্ধারণ, নতুন নতুন উদ্যোগ, তরুণদের সম্পৃক্ততা এবং বহু ভাষার শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করেন তারা। সম্মেলনে বক্তব্য দেন ল্যাঙ্গুয়েজ রিসোর্স হাবের সমর মাইকেল সরেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)'র চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. একেএম রিয়াজুল হাসান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মোছাম্মৎ নুরজাহান, গারো ভাষা বিশেষজ্ঞ বাধন আরেং, এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, লেখক ও সম্পাদক রিফাত মুনিম, এশিয়া ফাউন্ডেশনের শুক্লা দে, জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের সভাপতি ঝিমিত ঝিমিত চাকমা, লেখক ফাল্গুনী ত্রিপুরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাশরুর ইমতিয়াজ ও মং সার্কেল প্রধানের কার্যালয়ের রানী উখেংচিং মারমা, ভারতের টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোস্যাল সাইন্স এর সহকারী অধ্যাপক ড. বিশ্বরঞ্জন ত্রিপুরা, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অফ গুজরাট-এর পিএইচডি ক্যান্ডিডেট অমরেশ দেববর্মা, নর্থ ইস্টার্ন হিল ইউনিভার্সিটির পিএইচডি শিক্ষার্থী থমাস মলসম, নওগাঁ সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক যোগেন্দ্রনাথ সরকার, জুম ঈসথেটিক্স কাউন্সিল (জাক) এর সভাপতি ঝিমিত ঝিমিত চাকমা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নৃত্য প্রশিক্ষক ফিফা চাকমা। ইউনেস্কোর প্রতিনিধি লিন আন মোরো ও বার্ষা লেখি আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন, এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বাংলাদেশের আদিবাসী ভাষার বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন।

চিত্র: গল্পবইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তরুণ গল্পকারদের সাথে অতিথিবৃন্দ।
বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার ৫০টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যারা ৪১টি ভাষায় কথা বলে। তবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, দেশের প্রায় ১৫টি ভাষা বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্মেলনের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে আদিবাসী ভাষা রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।



























