প্রতিভা বিকাশে শিশুদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে

অয়ন আহমেদ

০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১২ পিএম


প্রতিভা বিকাশে শিশুদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে

শিশুদের নিরাপদ শৈশব ও সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রতিভা বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই অপার সম্ভাবনা ও প্রতিভা রয়েছে। সেই প্রতিভা বিকাশে শিশুদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত হলে শিশুরা নতুন উদ্যমে নিজেদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে এগিয়ে যেতে পারবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা, শিশু ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিশু-কিশোরদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেন, ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুদের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ দশক ধরে শিশুদের প্রতিভা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে।

শিশু একাডেমির বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ছবি আঁকা, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে অগণিত শিশু-কিশোরের প্রতিভা বিকশিত হয়েছে। শিশুদের সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

শিশুদের অধিকার ও শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা এবং মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমিকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, নতুন উদ্যোগ ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের প্রতিটি প্রান্তের শিশুর কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শিশু একাডেমি ভবিষ্যতেও শিশুদের স্বপ্ন ও প্রতিভা বিকাশের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হয়ে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সব বাধা পেরিয়ে তাদের সম্ভাবনার বিকাশ ঘটাতে হবে। নতুন উদ্যম ও উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুরা নিজেদের স্বপ্ন পূরণে সফল হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শৈশব হোক নিরাপদ, প্রতিটি শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত—এই আমাদের কামনা।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ শিশু তাদের স্বাগত জানায়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

আলোচনা সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পরে তারা শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনী ও আলোকচিত্র গ্যালারি পরিদর্শন করেন।

Ads