আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে সাজানো হবে ধানমন্ডি লেক
০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
ধানমন্ডি লেকের সার্বিক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় দুটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। এর একটি প্রকল্পের আওতায় লেকের তলদেশের স্ল্যাশ উত্তোলন ও অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। বিস্তারিত নকশা (ডিটেইল ডিজাইন) প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে লুলো এখানে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ধানমন্ডির বাসিন্দাদের পাশাপাশি রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মানুষেরও বিনোদেকের উন্নয়নকাজ করা হবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ধানমন্ডির ৩/এ-তে ‘ধানমন্ডি লেকের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শেখ রবিউল আলম বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ধানমন্ডি লেকে ক্যাফে, নতুন ওয়াকওয়ে এবং নাগরিকদের অবসর ও বিনোদনের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হবে। আধুনিক একটি লেকে যেসব সুবিধা থাকা প্রয়োজন, সেগুলো এখানে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ধানমন্ডির বাসিন্দাদের পাশাপাশি রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মানুষেরও বিনোদনের সুযোগ বাড়বে।
তিনি বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ ছিল। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হতে চলায় তিনি আনন্দিত। তবে লেকের উন্নয়নের পাশাপাশি সেখানে আসা নাগরিকদেরও পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হতে হবে। সবার সহযোগিতা থাকলে লেকের পরিবেশ সুন্দর রাখা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করা হলেও কাজটি গুছিয়ে আনতে সময় লেগেছে। প্রাথমিকভাবে লেকের তলদেশের স্ল্যাশ পরিষ্কার করা হবে। এরপর পানি পরিষ্কার, সাইডওয়াল সংস্কার, বিদ্যমান ওয়াকওয়ে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ, গাছপালার সৌন্দর্যবর্ধন এবং লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
শিশুদের বিনোদনের জন্য লেকে স্পিডবোটের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তবে লেক যাতে বারবার দূষিত না হয়, সে জন্য ধানমন্ডিবাসীর সহযোগিতা ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার দাবি, লেকে মাছ রয়েছে এবং বর্তমানে পানি মাছ মারা যাওয়ার মতো মাত্রায় দূষিত নয়।
আবদুস সালাম বলেন, ধানমন্ডি লেককে কেন্দ্র করে পুরো ধানমন্ডি এলাকা আরও সুন্দরভাবে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে এলাকার রাস্তা, ফুটপাত ও লাইটিংসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধার উন্নয়ন করা হবে।
এ ছাড়া লেক এলাকায় ‘নজরুল মঞ্চ’ নামে একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি লাইব্রেরি, ক্যাফে ও পড়াশোনার ব্যবস্থা থাকবে। রবীন্দ্র সরোবরের আদলে এটিকে ঢাকার মানুষের জন্য একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জানান, মঙ্গলবার থেকেই ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নকাজ শুরু হচ্ছে। এ কাজে ধানমন্ডিবাসী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ লেকে আসেন। তাই সবার চলাচল ও বিনোদনের জন্য সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ তৈরি করা হবে।

































