জাতিসংঘ সফরে প্রধানমন্ত্রীর ১১ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, ৩০ কর্মসূচি: মাহদী
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ তথ্য জানান।
মাহদী আমিন বলেন, এসব বৈঠক ও কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। এর মধ্যে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক উল্লেখযোগ্য।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিন দেশই প্রধানমন্ত্রীকে নিজ নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, চার দিনের সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে পাঁচটিতে তিনি বক্তব্য দেন। সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনেও তিনি বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরকালে ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জেপি মরগান চেজ আয়োজিত একটি প্রাতরাশ বৈঠকেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট, গেটস ফাউন্ডেশন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদারের সঙ্গেও বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট এবং মাতৃ, নবজাতক স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তন, জাস্ট ট্রানজিশন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সফরকালে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং চারটিতে বক্তব্য দেন।
এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি-বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান ছিল।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা চার দিনে প্রায় ৮০টি বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ছোট একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে সফরে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় উঠে এসেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।






























