শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে পুলিশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে

মোঃ আশরাফুল আলম

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম


শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে পুলিশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে

ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের কোনো সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে এবং অপরাধে জড়ালে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশের কেউ কেউ এখনও ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এমন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকার পিছপা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো নাগরিক অপরাধের শিকার হলে বা নিরাপত্তাহীনতায় পড়লে প্রথমেই পুলিশের কাছে যায়।

পুলিশের দায়িত্ব শুধু অপরাধী গ্রেপ্তার বা আইন প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা এবং রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থা তৈরিও পুলিশের দায়িত্বের অংশ।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চায়, যা দক্ষ ও পেশাদার, প্রযুক্তিনির্ভর, মানবিক এবং আইন প্রয়োগে নিরপেক্ষ হবে।

বর্তমানে সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল জালিয়াতি ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসব মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্য ও তদন্ত কৌশলের সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বাংলাদেশ পুলিশকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় স্বতন্ত্র সাইবার ইউনিট চালুর কথাও জানান তিনি।

তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের আস্থা বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ‘গুড ফেইথে’ ছোটখাটো ভুল হলে সেটি সেভাবেই বিবেচনা করা হবে। কিন্তু শৃঙ্খলাভঙ্গের সঙ্গে অপরাধ সংঘটিত হলে শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে না।

তিনি বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধ করলে সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য ফৌজদারি আইন অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু তিরস্কার, লঘুদণ্ড বা গুরুদণ্ডের মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে—এমনটা ভাবার সুযোগ নেই।

পুলিশের তৃণমূল পর্যায় থেকে আইজিপি পর্যন্ত সবাইকে দায়িত্ব পালনে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজন, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কঠোর হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আগের সময়ে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে। অনেক পুলিশ সদস্যকে অবৈধ ও বেআইনি নির্দেশ পালন করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা এবং ফ্যাসিবাদী শক্তিকে গোপনে তথ্য বা অন্যভাবে সহযোগিতা করার বিষয়ে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তার পদ যা-ই হোক, জনগণের প্রত্যাশা অনুধাবনে ব্যর্থ হলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলেও সতর্ক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণ পুলিশের কাছ থেকে কর্তৃত্বপূর্ণ আচরণ নয়, জনবান্ধব আচরণ প্রত্যাশা করে। পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে মানুষের সঙ্গে সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ করতে হবে এবং তাদের সমস্যার কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে।

তিনি সিনিয়র কর্মকর্তাদের এমন কোনো কর্মকাণ্ড না করার নির্দেশ দেন, যা জনগণের কাছে অস্বাভাবিক বা অগণতান্ত্রিক মনে হতে পারে। অধস্তনদের এমন আচরণে প্রশ্রয় না দেওয়ার জন্যও কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন।

পুলিশের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রয়োজনে শর্ট কোর্সের মাধ্যমে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের কথাও বলেন তিনি।

পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পদক তাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতি হলেও এর সঙ্গে আরও বড় দায়িত্বের অঙ্গীকার জড়িত। ভবিষ্যতে তাদের আরও সততা, সাহস, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

Ads