অধ্যক্ষ বিমল চন্দ্রের কান্ড; ক্লাস ফাঁকি দিয়ে কলেজে জুয়া খেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ মে ২০২৪, ১০:২৭ পিএম


অধ্যক্ষ বিমল চন্দ্রের কান্ড; ক্লাস ফাঁকি দিয়ে কলেজে জুয়া খেলা

বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ঢাকা বিভাগের সব চেয়ে  ছোট জেলা নারায়ণগঞ্জের স্বনামধন্য সরকারি কলেজ ‘সরকারি তোলারাম কলেজ’ এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক বিমল চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে কলেজ চলাকালীন সময়ে জুয়া খেলাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, অধ্যক্ষ বিমল চন্দ্র দাস কলেজের পেছনের খালি জায়গা বালু ভরাটের নামে মুজিব গংদের নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি তার ব্যাচের  নারী কলিগদের  নিয়ে স্টাফ রুমে বসে জুয়া খেলেন। এ ছাড়াও তার আরো রয়েছে জুয়া ও সিগারেট পার্টনার যাদের না- মুজিবুর, আনারুল ও বসার। তথ্যসূত্রে জানাগেছে সকল লাভজনক কমিটি যেমন ভর্তি কমিটির দায়িত্বে থাকেন মুজিব গং ও পছন্দের নারী কলিগরা।  


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী কলিগরা জানান, তিনি একেক সময় নারী কলিদেরকে ডেকে তাদের বাসা-বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জোর-জবরদস্তি করেন।  কোন কোন সময় পছন্দের ১৫থেকে ১৬ জন নারী-পুরুষ দল-বল নিয়ে  একেক বাড়ী এক এক দিন গিয়ে খাসী জবাই ও বার বি কিউ করে প্রমোদভ্রমনের আয়োজন করেন।


অপরদিকে তার নির্দেশনানুযায়ী না চললে বিভিন্ন সময় তার রুমে নারী কলিগদের ডেকে অশালীন ভাষায় গালিগাল করেন। কিন্তু তিনি কলেজের প্রিন্সিপাল বলে কেউ তাকে কিছু বলার সাহস পায়না।  এ ছাড়াও তিনি আসবাবপত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে পিপিআর অনুসরণ না করেই টেন্ডারে অনিয়মের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিন। কলেজে ব্যবহারযোগ্য বহু আসবাবপত্র অচল বা অপ্রয়োজন দেখিয়ে ট্রাকনিক্যাল কমিটির মতমত না নিয়ে বিক্রি করছেন এবং সেই অর্থ রাষ্ট্রিয় কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজে আত্মসাত করছেন। ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের কাজ থেকে এবং প্রসংসা পত্র দেয়ার নামে রিসিড না দিয়ে লাখ  লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করছেন খোদ কলেজের শিক্ষার্থীরাও।


এছাড়া বোর্ড থেকে নির্ধারিত টাকার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে আত্মসাত করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরূদ্ধে। এছাড়াও মজিবর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একাডেমিক ক্যালেন্ডার ছাপানোর নামে টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ সব অভিযোগের বিষয় অধ্যক্ষ অধ্যাপক বিমল চন্দ্র দাসের কাছে ফোনে জানতে চাইলে তিনি উল্টো দাম্ভিকতার সাথে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনার কাছে কি প্রমাণ আছে? আমাদের প্রতিবেদক তাকে ভিডিও ফুটেজ দেখালে তিনি বলেন সেখানে কী টাকা দিয়ে তাস খেলতে দেখা যায়? এরপর তিনি বলেন, আমাদের এখানে তাস খেলার বার্ষিক ক্রিয়া প্রতিযোগীতা হয়। এ জন্য মাঝে মধ্যে তাস খেলতে হয়।

Ads