রাজধানীতে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ১৩৮৪ জন
২৮ মে ২০১৮, ০৫:১৫ পিএম
রাজধানীতে তালিকাভুক্ত ১৩৮৪ জন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন। ৪৯টি থানা এলাকায় নিজস্ব জোন ভাগ করে তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এসব মাদক ব্যবসায়ীর কাছে টেকনাফ, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে মাদকের বড় বড় চালান চলে আসছে। সড়ক পথের পাশাপাশি নৌপথ দিয়েও রাজধানীর মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে মাদক পৌঁছায়।
তবে রাজধানীতে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত উৎকোচ নিচ্ছেন কিছু রাজনীতিক নেতা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক শ্রেণির কর্মকর্তা। এ কারণে এসব ব্যবসায়ী ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। এসব ব্যবসায়ীর কারণে রাজধানীর অলিগলি, পাড়া-মহল্লায় অবাধে পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক।
এবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ১৩৮৪ জনের তালিকা ধরে মাদক নির্মূলে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে। পুলিশ, গোয়েন্দা ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে রাজধানীর মাদক ব্যবসায়ীদের সর্বশেষ এই তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়। রাজধানীতে অভিযানের আগাম তথ্য অনেক পুলিশ সদস্য আগেই মাদক ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেয়। শুধু রাজধানীতে নয়, ঢাকার বাইরেও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। গতকাল কাওরান বাজারে অভিযান চলাকালে এক পুলিশ সদস্য ফোন করে মাদক ব্যবসায়ীকে জানিয়ে দেয়। অভিযানের আগাম তথ্য পাচার হওয়ায় অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ী নিরাপদে পালিয়ে যায়।
রাজনীতিক, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় থাকায় রাজধানীর মাদক ব্যবসায়ীরা খুবই ক্ষমতাধর। তাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নগরীর ৬ শতাধিক স্পটে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে। এসব স্পটে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। জানা গেছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, পল্লবী, কালশী, জেনেভা ক্যাম্প, কমলাপুর রেলস্টেশন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, চাঁনখারপুল, গ্লোরিয়া, টিটিপাড়া, খিলগাঁও, পুরানা পল্টন, বাড্ডা, ভাটারা, বনানী, গুলশান, মতিঝিল, আরামবাগ, যাত্রাবাড়ী, দক্ষিণ বনশ্রী, ধানমন্ডি, মিরপুর, তেজগাঁও রেলবস্তি, উত্তরা, গাবতলী, কাওরানবাজার রেলবস্তি, রূপনগর, শাহআলী, বংশাল, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ছয় শতাধিক স্পটে প্রকাশ্যে চলে মাদক কেনাবেচা। আর এসব স্পট নিয়ন্ত্রণ করছেন ১৩৮৪ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মেডিক্যাল কলেজসহ অনেক স্কুলে প্রকাশ্যে চলছে মাদক সেবন। সব পেশার মানুষ এখন মাদকে আসক্ত। বিশেষ করে মেধাবি ও তরুণরাই মাদকে বেশি আসক্ত হচ্ছে। যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। তবে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য হচ্ছে, জঙ্গিরা এখন মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। ১৩৮৪ মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যেও জঙ্গি রয়েছে। জঙ্গিদের অর্থের অন্যতম উত্স এখন মাদক। ইতিমধ্যে রাজধানীতে মাদকসহ জঙ্গি ধরাও পড়েছে। এমন প্রেক্ষিতে সরকারের হাইকমান্ডের নির্দেশে মাদক নির্মূল অভিযানে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।



































