প্রকৃতি-পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে 'সবুজ বাংলা'র মত সংগঠন চাই

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:৫৫ পিএম


প্রকৃতি-পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে 'সবুজ বাংলা'র মত সংগঠন চাই

জীবজন্তুর আধিক্যতা ও সবুজের সমারোহে বাংলাদেশের জুড়ি মেলানো কষ্টকর। দেশটির সবুজ অরণ্যের কারণে ‘রুপসী বাংলা’ বলে পরিচিত। বন-অরণ্যে বিচরণ করে হাজার প্রজাতির জীবজন্তু। এ দেশে প্রায় ১২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৭১৮ প্রজাতির পাখি, ১৫৭ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৪২ প্রজাতির উভচরসহ সর্বমোট ১০৪২ প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে। কিন্তু আমাদের অজ্ঞতা, অসচেতনতা, অদূরদর্শী কর্মকান্ডের ফলে এসব বন্যপ্রাণী ও এদের আবাসস্থল আজ হুমকির মূখে। দুঃখের বিষয় হল, ইতোমধ্যে দেশ থেকে ১৪ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বিলুপ্তি হয়েছে এবং অসংখ্য বন্যপ্রাণী, পাখি আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। কিন্তু এমতাবস্থায় আমরা পরিবেশবাদীরা কী করছি?

খুশির সংবাদ হল, বাংলাদেশ সরকার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ পাস করেছেন। এ আইনে (ক) পাখি শিকার, হত্যা, আটক ও ক্রয় বিক্রয় দন্ডনীয় অপরাধ। যার সর্বোচ্চ শাস্তি ২ বছর কারাদন্ড এবং ২ লক্ষ টাকা জরিমানা। (খ) বন্যপ্রাণী আটক, হত্যা, আটক ও ক্রয় বিক্রয় দন্ডনীয় অপরাধ। যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১২ বছর কারাদন্ড এবং ১৫ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। যা অনেকে জানেন না, আবার অনেকে জেনেও তা মানেন না। আর তাই নির্বিচারে শিকারের কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে অসংখ্য বন্যপ্রাণী ও পাখি। দেশব্যাপী জনসচেনতার মাধ্যমে আইনটি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃতি-পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আমাদের কাজ করতে হবে।

আমি প্রকৃতি-পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী নিয়ে লেখালেখি করি। এক সময় জেলায় এ ধরনের বেশ কয়েকটি সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলাম। ঢাকায় পাড়ি জমানোর পর তাদের সাথে আর সরাসরি কাজ করা সম্ভব হয় নাই। সম্প্রতি আমাদের নাটোরের একটি সংগঠনের কর্মীদের সাথে আমার পরিচয় ঘটে। বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কয়েক বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে আমাদের নাটোর জেলার ‘সবুজ বাংলা’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। দপ্তর সম্পাদক ফজলে রাব্বি ভাইয়ের সাথে সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে সেদিন অনেক কথা বার্তা হয়েছে। তিনি তাদের সংগঠনের বিষয়ে অনেক কিছুই জানালেন। সবচেয়ে বড় কথা, কোনো সরকারী সাহায্য ছাড়াই তারা পরিবেশ নিয়ে কাজ করে চলেছেন। দেশের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে তাদের গৃহীত উদ্যোগসমূহ সময়ের প্রেক্ষিতে প্রসংশার দাবিদার বলেই তাদের জন্য আমার এ বিশেষ নিবন্ধ। আশা করছি, এ সংগঠনের কাজকর্মে অনুপ্রাণিত হয়ে পরিবেশ রক্ষার্থে দেশে আরও অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে উঠবে।

প্রকৃতি-পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ‘সবুজ বাংলা’:

নাটোরের ‘সবুজ বাংলা’ সংগঠনটি প্রকৃতি-পরিবেশ, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রতিনিয়ত কাজ করছে ও নানাবিধ পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। যেমন, (১) সংগঠনের পক্ষ থেকে পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করে পাটজাত পণ্য ব্যবহারে মাইকিং করে, (২) শব্দ দূষণ রোধে বিভিন্ন ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদের সচেতন করে, (৩) দেশকে পরিবেশগত বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন এলাকায় পলিথিন ব্যাগ পুড়িয়ে ফেলানোর উদ্যোগ নেয়, (৪) বন্যপ্রাণী শিকার, আটক ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে স্থানীয়দের সচেতন করে, (৫) আটককৃত বন্যপশু-পাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত করে, (৬) বন্যপশু-পাখিদের শিকার থেকে স্থানীয়দের বিরত রাখে, (৭) নদী ও পরিবেশ দূষণ রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলে, (৮) বন্যপশু-পাখির খাবার উপযোগী বৃক্ষরোপন ও বিতরণ করে, (৯) স্থানীয়দের সচেতন করতে বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত সাইনবোর্ড, ব্যানার ও লিফলেট তৈরি ও বিতরণ করে, (১০) গাছের ডালে ডালে পাখিদের জন্য কৃত্রিম বাসা তৈরি ও খাবার পরিবেশন করে ইত্যাদি। এসব কর্মকান্ডের খবরাখবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসে।

সংগঠনটি প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিভিন্ন গণসচেতনতা মূলক প্রচার-প্রচারণা (পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট বিতরণ, মাইকিং ইত্যাদি), বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা ও তাগিদ প্রদান, বন্যপ্রাণী উদ্ধার অভিযান পরিচালনা, বন্যপ্রাণী শিকারে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি (জাল, ফাঁদ ইত্যাদি) উদ্ধার, বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা প্রদান, বৃক্ষরোপন কর্মসূচিসহ নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও বন, বন্যপ্রাণী, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক দিবস সফলতার সাথে পালন করে আসছে। সংগঠনের পক্ষ হতে জানলাম, ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় নাটোর জেলার মাধনগর, বাঁশভাগ, রামশার কাজীপুর, ঠাকুর লক্ষীকোলসহ আশপাশের গ্রামগুলোকে পাখি শিকার মুক্ত গ্রাম হিসাবে ঘোষণা করেছেন। এসব এলাকায় সচেতন হয়ে আর কেউ পাখি শিকার করে না। স্থানীয় তরুণরা সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিনিয়ত জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। এসব কাজে অনেকে উৎসাহিত হচ্ছে।

নাটোরকে পাখিবান্ধব জেলা গড়ার চেষ্টায় ‘সবুজ বাংলা’:

‘পাখি দেখলেই শিকার করো, রান্না করো’- এক সময় গ্রাম-গঞ্জে এটি যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল। এর ফলে বন্দুক দিয়ে, ফাঁদ পেতে, অথবা গাছে চড়ে পাখি শিকার করা হত। এসব পাখি শিকারীদের অত্যাচারে আমাদের পরিবেশ থেকে নানা জাতের পাখি হারিয়ে গেছে। তবে সরকারের কঠোর নীতির কারণে পাখি শিকার সর্ম্পূণরুপে অবৈধ ঘোষণার ফলে পাখি শিকার করা এখন অনেকটাই কমেছে। কিন্তু পুরোপুরি বন্ধ হয় নাই। কখনও কখনও গোপনে আবার কখনও প্রকাশ্যে পাখি শিকার চলছে। এতে করে এখনও পরিবেশে পাখিদের বিচরণ নিরাপদ নয়। নাটোরের চলনবিল অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শিকারীদের দৌরাত্ম্য। চলছে নির্বিচারে পাখি নিধন। চলনবিলে পাখি নিধন বন্ধে আমি অনেক পত্র-পত্রিকায় লিখেছি। কোনো কাজ হয় নাই। এই যখন অবস্থা, তখন জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নাটোরের বিভিন্ন এলাকায় ‘সবুজ বাংলা’র পক্ষ থেকে চলছে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং ও বিভিন্ন হাট-বাজার, স্কুল-কলেজের আশপাশসহ জনগুরুর্পূণ স্থানে বন্যপ্রাণী ও পাখিদের নিরাপত্তা বিষয়ক সাইনবোর্ড স্থাপন। চলছে প্রচার-প্রচারণা। এসব কাজে সংগঠনটি জনসাধারণের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে। 

মূলতঃ নাটোর জেলাকে পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল ঘোষণার লক্ষ্যে কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি।  সংগঠনের পক্ষ থেকে নাটোরে চলছে পাখি ক্রয়-বিক্রয় বন্ধে সচেনতা সৃষ্টি, আটকৃত দেশীয় প্রজাতির পাখি উদ্ধার, চিকিৎসা ও অবমুক্ত করার পাশাপাশি পাখিদের কৃত্রিম বাসা তৈরির কাজ। বিভিন্ন স্থানে পাখিদের বাস উপযোগী নতুন প্রযুক্তিতে তৈরি গাছে গাছে শতশত মাটির হাঁড়ি বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এলাকায় পাখিদের আনাগোনা বাড়াতে প্রতিদিন দানা জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করা হয়। পাখিদের বাসযোগ্য বৃক্ষ নিধন, খাদ্য সংকট, কৃষি ক্ষেতে অতিরিক্ত সার-কীটনাশক প্রয়োগ, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, শিকারিদের তান্ডব বেড়ে যাওয়ায় নাটোরে দিনদিন কমতে শুরু করেছে দেশীয় প্রজাতির পাখির সংখ্যা। তাই বন্যপ্রাণী রক্ষায় ব্যতিক্রমী কার্যকম শুরু করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি। সফলতা স্বরুপ বর্তমানে বনলতা সেনের নাটোর হয়ে উঠেছে একটি পাখিপ্রেমের জেলায়। আর নাটোরকে পাখিবান্ধব করতে আলোকবর্তিকার মতই জ¦লে উঠেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সবুজ বাংলা’।

শুধু তাই নয়, সংগঠনের উদ্যোগে পরিবেশ দূষণ রক্ষায় বাড়ির চারপাশ পরিস্কার-পরিছন্ন রাখতে সবাইকে উৎসাহিত করা, বৃক্ষরোপন সম্পর্কে ছোটদের উৎসাহিত করা, চারা বিতরন করা, বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা-ঘাট সংস্কারে সহযোগিতা করা, পাখিদের নিরাপদ আবাস্থল ও বংশ বৃদ্ধির লক্ষে কৃত্রিম বাসা তৈরি করা, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, উদ্ধার, চিকিৎসা ও জনসচেননতা সৃষ্টি করা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও বাজারে পাখির খাবার উপযোগী ফলজ বৃক্ষ রোপন করাসহ সমাজের নানা উন্নয়নমূলক কাজে তারা জড়িত। আশা করছি, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তরুণদের এমন কাজের যথাযথ মর্যাদা প্রদান করে দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করবে।

২.
আমরা যারা প্রাণীদের ভালোবাসি, সবাই চাই- কোনো প্রাণীকেই যেন হত্যা করা না হয়। তারা সব সময় প্রকৃতি-পরিবেশের মাঝে অবাধে বিচরণ করবে এটাই প্রত্যাশা। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নির্মল ও বাসযোগ্য পৃথিবীর জন্য তারা অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা যদি প্রাণীদের রক্ষায় এগিয়ে না আসি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। অভিশাপও কুড়াতে হবে। সত্য কথা বলতে, তৃণমূল থেকে শুরু করে প্রায় সময় সবখানে অনেক স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করে। কিন্তু এসব কাজে সরকারী কোনো সাহায্য-সহযোগীতা থাকে না। কিন্তু কেন আমরা নিজ খরচে এসব করছি? শুধুমাত্র দেশের জন্য, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য, একটি বাসযোগ্য পৃথিবীর জন্য। কিন্তু বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে তেমন জনঅংশগ্রহণও নাই। জনগণের অজ্ঞতা, অসাবধানতা, অদূরদর্শিতার কারণে প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী। তাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনঅংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। সেইসাথে ব্যতিক্রমি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। যার ফলে সহজেই জনসচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। আসলে যারা স্বেচ্ছায় পাখি, বন্যপ্রাণী তথা পরিবেশ নিয়ে কাজ করে, তাদেরকে সাথে নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রনালয়ের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। তাছাড়া যারা স্বেচ্ছায় কাজ করছে, তারাও একদিন হারিয়ে যাবে। যারা স্বেচ্ছায় দিনের পর দিন কাজ করে যাচ্ছে, তাদেরকে সাথে নিয়ে কার্যক্রম চালানো হলে বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ শূণ্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে আশা করি।

বাংলাদেশ বায়োডাইভার্সিটি কনজারভেশন ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় শতাধিক সংগঠন রয়েছে, যারা স্বেচ্ছায় দিনের পর দিন কাজ করে যাচ্ছেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রনালয় (বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) ও বিবিসিএফ এর উদ্যোগে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও আবাসস্থল উন্নয়ন, পাখি সমৃদ্ধ এলাকায় নিয়মিত টহল ও গণসচেতনতা সৃষ্টি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্য মাসে একবার হলেও মাইকিং করতে হবে। ইতোপূর্বে এই সংক্রান্ত অপরাধগুলোর খবর জানাই যেতো না, এখন বিবিসিএফ এর মাধ্যমে অনেকটা প্রতিহত করা যাচ্ছে। এ কাজে সামাজিক আন্দোলনটা গুরুত্ববহন করে। যেখানে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ  বিষয়ক তথ্য, দায়িত্ব,  আইন ও নীতিমালা জনসম্মুখে তুলে ধরা,  জনসচেতনতা তৈরী করা, জনমত গঠন এবং তা ধবংসকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা। তাছাড়া সামাজিক আন্দোলন বেগবান করার জন্য পরিকল্পিত কর্মসূচী দরকার। বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সভা, কর্মশালা,  সেমিনার, বিজ্ঞাপন, ফেষ্টুন, সাইনবোর্ড, পথসভা, স্কুল, কলেজ, মাদ্র্রাসা, বাজার প্রভৃতি স্থানে বা মাধ্যমে প্রচার ও প্রচারণা চালিয়ে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এটাই একটা নিরন্তর প্রচেষ্টা।

পরিশেষে, প্রকৃতি-পরিবেশ বাঁচাতে ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আমাদের মন-মানসিকতাকে পরিবর্তন করতে হবে। নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, কেন আমি পাখি শিকার করছি? কেন আমি নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন করছি? কেন আমি প্রকৃতি-পরিবেশকে হুমকির মূখে ঠেলে দিচ্ছি? এগুলো তো আমাদের পৃথিবীতে টিকে থাকার উপাদান। এগুলো ধ্বংস করলে আমরাই ধ্বংস হব। অতঃএব ব্যক্তি নিজে না পারলে ‘সবুজ বাংলা’র মতো সংগঠনের ছায়ায় এসে দেশ ও পরিবেশকে নিয়ে কাজ করুন, করতে হবে। আশা করছি, বাংলাদেশ প্রকৃতি-পরিবেশ  ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সারা বিশ্বের উদাহরণ হয়ে থাকবে।

লেখক: কবি ও কলামিস্ট, ঢাকা।

Ads