আদর্শিক জাতি গঠনে লেখক বুদ্ধিজীবির ভূমিকা
১৫ জুলাই ২০১৯, ০৪:৪২ পিএম
আদর্শিক জাতি গঠনে লেখকের ভূমিকার কথা না বলে পারা যায় না। সমাজের নানা ক্ষেত্রে সমাজ বিজ্ঞানী বুদ্ধিজীবিগণ রাষ্ট্রের নিকট নিয়মিত অবদান রেখে যাচ্ছে। একটি সমাজ একটি গোষ্ঠীকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে লেখক বুদ্ধিজীবিদের বিজ্ঞ মতামতের শেষ নেই। রাজনীতি, অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সমাজ বিজ্ঞানী লেখক বুদ্ধিজীবিগণ নিয়মিত ভাবে রাষ্ট্রের কল্যাণে তাদের লিখনী চালিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টর মহান লেখক আর বুদ্ধিজীবিদের সুদিপ্ত পরামর্শ চিন্তায় রেখে দেশ পরিচালনা করে। লেখক বুদ্ধিজীবি সমাজের সম্মানিত অংশ। তারা নিজের কথা না ভেবে সর্বদা রাষ্ট্রের উন্নতির কথা চিন্তা করে। তাদের গবেষণা লব্ধ জ্ঞান আর বুদ্ধি রাষ্ট্রের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পৃথিবীর দেশে দেশে বুদ্ধিজীবি, গবেষক ও কলামিস্ট আছেন। তাদেরকে যথেষ্ট সম্মানের সাথে মূল্যায়ন করা হয়। তাদের চিন্তা ও চেতনায় দেশ পরিচালিত হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে জাতীয় বুদ্ধিজীবিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পরামর্শ নেয়া হয়। আমাদের দেশে ডান বামের চত্রছায়ায় অনেক লেখক, বুদ্ধিজীবি ও কলামিস্ট আছেন। রাজনীতির ভিন্ন ভিন্ন আদর্শের অনুসারী অথবা চিন্তায় তাদের মতামত ব্যক্ত হলেও বাস্তবে তাদের লেখনীর মাধ্যমে জাতি উপকৃত হচ্ছে। দেশ জাতির উন্নতি অগ্রগতি কীভাবে হচ্ছে তা তাদের সুচিন্তিত আলোচনায় পাওয়া যায়। দুর্নীতি অনিয়ম লুটপাটের বিরোদ্ধে তাদের মতামত পরামর্শ প্রকাশিত হয়। জাতীয় স্বার্থের ব্যবহার রক্ষণাবেক্ষণে তাদের মতামত স্পষ্ট পাওয়া যায়। জাতির স্বার্থের পরিপন্থি যেকোনো সিদ্ধান্তের কড়া বিরোধিতা তাদের লেখনির মাধ্যমে প্রকাশ পায়। রাষ্ট্রীয় অনিয়ম দুর্নীতি কোনো অবস্থায় লেখকগণ চুপেচাপে গ্রহণ করে না। রাজনীতি সঠিক পথে না চললেও একজন লেখক কখনো দুর্নীতিকে মাথা পেতে গ্রহণ করে না। জাতির প্রয়োজন রাষ্ট্রের মানুষের সুখ দু:খের সঠিক কর্মপন্থা দিকনির্দেশনা একজন লেখক ও সমাজবিজ্ঞানী রাষ্ট্রের সামনে তুলে ধরতে দ্বিধাবোধ করেন না। একটি জাতিকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে লেখক বুদ্ধিজীবির পরামর্শের বিকল্প নেই। আমাদের দেশে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের লেখক দেখা গেলেও মূলত কেউই অন্যায়ের সামনে চুপচাপ কলম নিয়ে বসে থাকে না। রাজনীতিবিদ তাদের দায়িত্ব থেকে সময় অসময়ে নিরব থাকলেও একজন লেখক ও সমাজবিজ্ঞানী রাষ্ট্রের স্বার্থে তার বক্তব্য ও লেখনি অব্যাহত রাখতে দেখি। সারা পৃথিবীতে সম্মানিত এসব মানুষকে রাষ্ট্র ও শাসকগোষ্ঠী অত্যন্ত মর্যাদার সাথে তাদের দেখে থাকে। রাষ্ট্রের স্বার্থে তাদের মানবিক সমস্ত অধিকার দেয়া হয়। তাদের প্রতি রাষ্ট্রীয়, সামাজিকভাবে আন্তরিকতা ও ভালোবাসা থাকে। বাংলাদেশে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার ব্যাতিক্রম দেখা যায়। এদেশে প্রকৃতপক্ষে যারা সমাজ গবেষক ও লেখক রয়েছে তাদের সম্মান নেই বলা যায়। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের প্রতি তেমন গুরুত্ব দেখা যায় না। যদিও এসব সাদা মনের মানুষগুলো নিজের মেধা যোগ্যতা আর লেখনির মাধ্যমে জাতিকে প্রতিটি মুহূর্তে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সে মহান মানুষগুলোর প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজ দায়িত্বশীল নয়। এ মানুষগুলোর অনেকেই সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে নানাভাবে অবহেলার পাত্র। শেষ জীবনে এসে পরিবার ও রাষ্ট্র থেকে কোনো ধরনের দায়িত্বশীল আচরণ পর্যন্ত পায় না। অর্থাভাবে চিকিৎসা পর্যন্ত নিতে পারে না। টাকা পয়সা দুনিয়াদারির কোনো মোহ মায়া মমতা তাদের থাকে না। এসব মানুষের মূল্যবান গবেষণা আর পরামর্শের উপর দেশ জাতি এগিয়ে থাকলেও আলোকিত মানুষগুলো সমাজের নানা অবহেলা তাদের জীবন শেষ জীবন অত্যন্ত বেদনাদায়ক হয়ে উঠে। সেসময় তাদের পাশে পরিবার রাষ্ট্র যেভাবে এগিয়ে আসা দরকার আসে না। পাওয়া যায় না, যাদের জন্য সারা জীবন তাঁরা লিখে গেছেন তারা কেউই ওই মানুষগুলোর পাশে আসে না। সারাদেশের প্রচারপত্রে ওই মানুষগুলোর গবেষণা লব্ধ জ্ঞান বিতরণ হলেও কোনো মিডিয়া আলোকিত মানুষগুলোর সুখ দু:খের সাথি হয় না। যাদের হাজার হাজার আলোকদীপ্ত লিখা নিয়ে পত্রিকার পাতা পূরণ করা হয়েছিল সেসব পত্রিকার মালিক সম্পাদক কেউই তাদের খবর রাখে না। এটা অত্যন্ত দু:খজনক ও বেদনাদায়ক অধ্যায়। সমাজের আলোকিত সম্মানিত লেখক বুদ্ধিজীবিদের সুখ দু:খের পাশে রাষ্ট্র ও জাতিকে থাকতে হবে। আলোকিত মানুষ ও সমাজ গঠনে অবশ্যই তাদের কল্যাণে সুখে দু:খে থাকা চায়। দেখা যায় রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ও রাজনীতির কারণে অনেক সময় লেখক বুদ্ধিজীবিদের দলে টেনে নিতে দেখি। তাদের প্রয়োজনে লেখক বুদ্ধিজীবিদের ব্যবহার হতেও দেখা যায়। কিন্তু প্রয়োজন যখন শেষ হয়ে যায় তখন ওই মানুষগুলোর আর খবর রাখা হয় না। রাষ্ট্রের সমস্ত সুযোগ সুবিধা রাজনীতির মাধ্যমে নেতারা আত্মসাত করে। আর যারা সমাজকে সঠিক পথে চালাতে অবিরাম রাষ্ট্রের পাশে থেকে মেধা বিকাশ করছে তাদের পাশে সমাজ ও রাষ্ট্রকে দেখা যায় না। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যেভাবে এ মানুষগুলো কাজ করছে, তাদের প্রয়োজনে রাষ্ট্রকে পাশে থাকা চায়। সুখ দু:খে অভাব অনটনে সামাজিকভাবে প্রয়োজনীয় সময়ে রাষ্ট্রকে পাশে থাকতে হবে। তাহলে সমাজ, দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণ আরো এগিয়ে যাবে। আলোকিত মানুষ লেখক বুদ্ধিজীবি সমাজবিজ্ঞানী জন্ম নেবে। আসুন সমাজের আদর্শিক পরিবর্তনের জন্য অবশ্যই লেখক বুদ্ধিজীবি ও আলোকিত মানুষগুলোকে মর্যাদায় রাখি।
লেখক: গবেষক, প্রাবন্ধিক



































