২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ এএম


২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

রানের বিমান চলাচল খাতে নতুন করে কঠোর চাপ সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করা বিদেশি বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী ও টিকিট বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বজুড়ে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বেসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো বিদেশি বিমানবন্দর ইরানি বিমানকে অবতরণের পর জ্বালানি, ল্যান্ডিং সেবা বা টিকিট বিক্রির সুবিধা দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য শুধু ইরানি বিমান সংস্থাগুলো নয়; তাদের আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বিদেশি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও চাপে রাখা। এতে বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী, গ্রাউন্ড সার্ভিস প্রতিষ্ঠান, টিকিট বিক্রয়কারী ও অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের বিমান চলাচল খাতের আরও দুই ডজনের বেশি এয়ারলাইন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। ওয়াশিংটন বলেছে, এসব পদক্ষেপ ইরানের অর্থনৈতিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।

ইরানের বিমান চলাচল খাত দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে নতুন উড়োজাহাজ, যন্ত্রাংশ, প্রযুক্তি ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা সংগ্রহে সমস্যার মুখোমুখি। নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক রুটে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও সীমিত হতে পারে।

মার্কিন প্রশাসনের বৃহত্তর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কর্মসূচি ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ হিসেবে ইরানের বিমান চলাচল খাতেও ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানের আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ সীমিত করা। এর আওতায় বিমান চলাচলের পাশাপাশি জ্বালানি, নৌপরিবহন, প্রযুক্তি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক খাতও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে।

তবে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হবে কি না, তা বিদেশি বিমানবন্দর ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে কীভাবে সাড়া দেয় তার ওপরও নির্ভর করবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি এয়ারলাইনগুলোর আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তুলনামূলক সীমিত হওয়ায় এর প্রভাবের মাত্রাও নির্ভর করবে নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয় তার ওপর।

Ads