ডিজেলের খরচ নেই, সোলার পাম্পে বাড়ছে ঝিনাইদহের কৃষকের আয়

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৬ এএম


ডিজেলের খরচ নেই, সোলার পাম্পে বাড়ছে ঝিনাইদহের কৃষকের আয়

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের বাড়তি খরচে সেচ ব্যয় যখন কৃষকদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন সৌরশক্তিচালিত সেচব্যবস্থা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে ঝিনাইদহে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সোলার পাম্প স্থাপনের ফলে সেচ খরচ কমার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগও তৈরি হয়েছে কৃষকদের।

জেলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় ইতোমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় তিনটি, কোটচাঁদপুরে একটি এবং মহেশপুরে ৩২টি পাম্প রয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য এলাকাতেও সোলার পাম্প স্থাপনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশনের (আরআরএফ) বাস্তবায়নাধীন ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের আওতায় এসব সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প স্থাপন করা হচ্ছে।

সোলার পাম্প ব্যবহারকারী কৃষকদের ভাষ্য, প্রচলিত ডিজেলচালিত সেচব্যবস্থার তুলনায় সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্প পরিচালনায় খরচ অনেক কম। এতে নিজেদের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি অন্য কৃষকদের জমিতে সেচ দিয়ে বাড়তি আয়ও করতে পারছেন তারা।

বিশেষ করে মহেশপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় ফুলচাষীদের জন্য সোলার পাম্প নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ কমে যাওয়ায় কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ও কমছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, সোলার পাম্প স্থাপনে তার মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে আরআরএফের ‘স্মার্ট’ প্রকল্প থেকে ৪৫ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন তিনি।

মহেশপুরের কৃষক সাদিকুল রহমান জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় আরআরএফ প্রথমবারের মতো ফুলচাষীদের নিয়ে কাজ করছে। প্রকল্পের ঋণ ও অনুদানের মাধ্যমে তিনি সোলার পাম্প স্থাপন করেছেন। নিজের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি আরও ১৫ বিঘা জমিতে সেচ দিয়ে বাড়তি আয় করছেন তিনি।

ফুলচাষী গফুর মিয়া বলেন, সোলার পাম্প স্থাপনের পর সেচে তেল ও বিদ্যুতের খরচ হচ্ছে না। নিজের জমির সেচের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অন্যের জমিতে সেচ দিয়ে বাড়তি উপার্জন করতে পারছেন।

আরআরএফের সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ ড. অসিত বরণ মণ্ডল বলেন, পিকেএসএফের সহায়তায় ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সামনে আরও ১০০টির বেশি পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, প্রচলিত ব্যবস্থায় এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও সোলার পাম্প ব্যবহারে সেই খরচ কমে প্রায় ২০০ টাকায় নেমে এসেছে। এতে কৃষকদের সেচ ব্যয় কমার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও কমবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌরশক্তিনির্ভর সেচব্যবস্থা সম্প্রসারিত হলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে। একই সঙ্গে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

Ads