সবুজ ও বনানীর প্রয়োজনীয়তা
১৩ নভেম্বর ২০১৮, ০৪:৪৩ পিএম
পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষ সবুজ-শ্যমল দেশ পছন্দ করে। অার সবুজ-শ্যামল দেশ গড়ার পিছনে সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বন বনানী। বন হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ। সেই সুবাধে অামাদের উচিত বনবনানী বাড়ানোর জন্য প্রতিযোগিতা করা। কিন্তু অামাদের বাংলাদেশেসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে দেখি তার উল্টটা। বন বনানী ধ্বংস করার জন্য কিছু স্বার্থনেষী মানুষ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। গত ১০০ বছরে ১.৫ বিলিয়ন হেক্টর আর্দ্র বনের অর্ধেকটাই উজাড় হয়ে গেছে। প্রত্যেক দেশের জন্য তার আয়তনের অন্তত ২৫ ভাগ এলাকায় বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে এর পরিমাণ ৫-৭ ভাগের বেশি হবে না বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ব্যাপক ক্ষতি থেকে বন আমাদের রক্ষা করে। বঙ্গোপসাগরের তীরে গড়ে ওঠা ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে বার বার উপকূলবাসীকে মায়ের মতো আগলে রেখেছে। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যাবতীয় প্রয়োজন মিটিয়ে আসছে বৃক্ষ। যে সকল কারণগুলোর জন্য অামরা সুন্দট পরিবেশ হারাতে বসেছি, নির্মাণসামগ্রী,জ্বালানি, বসতি, ইটের ভাটা, দূষণ,জীবাশ্ম জ্বালানি কিংবা কল-কারখানা নির্গত অসংখ্য দূষক কণা গাছের পাতায় জমে পত্ররন্ধ্র বন্ধকরে গাছের সালোকসংশ্লেষণ ও বৃদ্ধিতে বিঘ্ন ঘটিয়ে গাছকে দুর্বল করে ধ্বংস ত্বরান্বিত করে। তারপর রয়েছে, অভিবাসন,কৃষি জমি সম্প্রসারণ,নগদ অর্থকরী গাছ রোপণ ও বনের গাছ নিধন , বিভিন্ন স্থাপনা, পশুচারণ,দাবানল,জুম চাষ,ঝড়-তুফান,বন্যপ্রাণী নিধন,ভূমিক্ষয় ও ভূমিধস, নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস ও প্লাবন সৃষ্টি, তৈলাক্ত পরিবেশ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও মানুষের সচেতনতার অভাবেই বনবনানী ধ্বংস হচ্ছে। এখন থেকেই উপরে বর্ণিত কারণগুলোর প্রতিহত করা উচিত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। যদিও ২১ মার্চ বিশ্ব বন দিবস হিসেবে পালন করা হয়, তবে সেটার কার্যক্রম বা গুরুত্ব বছরে একদিনেই সীমাবদ্ব থেকে যায়। বছরে কিছু সময়ের জন্য ঈদ,পুজা বা অন্যান্য উৎসব পালনের অানন্দ পাওয়া গেলেও সেটা সারা বছর স্থায়ী থাকে না। তেমনি বছরে ১ বার বন দিবস পালন করলেই সেটার প্রভাব সারা বছর থাকে না। বন বনানী রক্ষা করতে হলে তৃণমূল পর্যায় থেকে উদ্যােগ নিয়ে সেটার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকায় পালিত এক সমাবেশে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছিলেন, দেশের বন ও প্রাকৃতিক সম্পদগুলো যেহেতু ঢাকার বাহিরে অবস্থানরত। তাই শুধু ঢাকায় বসে বনানী, বন্য প্রাণী এবং সবুজকে টিকিয়ে রাখার স্বপ্ন দেখা হবে ব্যর্থ প্রত্যাশা। স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে দলগঠন করে পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। যেন কেউ বন্য প্রাণী ও গাছ কাটতে না পারে। এই পরিকল্পনাটা মনে হয় সেদিন সমাবেশ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। অাজও কোন পত্র পত্রিকায় এই রুপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কথা উল্লেখ হয়নি। তবে এখন একটা সাহসীকতার গল্প শুনাব। শুধু সাহসীকতা বলবনা! সাথে অর্জনও রয়েছে। টেকনাফের গর্জন বন দিনদিন উজার হচ্ছিল সাথে বন্য প্রাণীও। এটা দেখে বনের পাশে বসবাসরত খুরশিদা বেগম গ্রহণ করলেন একটি সাহসী পদক্ষেপ। ২০০৭ সালে তিনি সহ ২৮ জন সাহসী মহিলা নিয়ে গড়ে তোলেন একটি বন রক্ষা কমিটি যেখানে ৪২ জন পুরুষও ছিল। অাস্তে অাস্তে বন উজার ও বন্য প্রাণী হত্যাও বন্ধ হয়ে যায়। বিনিময়ে ২০১২ সালে সরকারের পক্ষ থেকে অর্জন করেন ১৭ লক্ষ টাকার পুরস্কার (সূত্র ৭১ টিভি)। নিঃসন্দেহে এটি একটি ভাল কাজ ছিল। ভূমিদস্যুদের প্রতিহত করার জন্য এরকম পদক্ষেপ প্রত্যেকটা বন বনানীর পাশে গরে উঠলে অাশা করা যায় বনানী রক্ষা সহ তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। এ ক্ষেত্রে পরিবেশ মন্ত্রণালয় মনোনিবেশ দিলে কাজটা অারও সহজ হয়ে যাবে। এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা উচিত, যাদের হাতে বন, প্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণ করার দায়িত্ব অর্পিত অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভুমিকা পালন করে। এ ক্ষেত্রে কি বলা যেতে পারে? সেক্ষেত্রে বন কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে সৎ ও দায়িত্ববান লোকবল নিয়োগ এবং তাদের কর্মের যথাযথ তদারকি করা যেতে পারে। সাথে পরিবেশ ধ্বংসের সাথে জড়িত পরিবেশ কর্মকর্তা জড়িত থাকলে সেটা বড় ধরনের অন্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে নিয়োগের সময় হস্তক্ষেপ নেওয়া এবং তা বাস্তবায়ন করা ইত্যাদি। সর্বোপরি সবার সচেতনতার প্রয়োজন। বিভিন্ন এলাকায় ছোট বড় সভা সমাবেশ করে সকলকে সচেতন করতে হবে। মিডিয়া,পত্রিকা ও এফ এম গুলোর সহযোগিতাও প্রয়োজন। তারা প্রতিনিয়ত এগুলো প্রচার করলে সবাই ব্যাপারটা গভীরভাবে অামলে নিবে।
পরিশেষে একটি ছড়া দিয়ে এখানেই ইতি টানছি-
বনবনানীর পরিচর্যা করিলে,
সবুজ-শ্যামল পরিবেশ মিলে।
সুন্দর পরিবেশ দেখতে চাই,
বন বনানীর বিকল্প নাই।
.
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।



































