এরই নাম কি শিশু অধিকার?
০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৪৪ পিএম
আজকের শিশু আগামীদিনের আশার আলো। শিশুদের বেড়ে ওঠার সময় অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। সব শিশু পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্রে থেকে সমান সুযোগ-সুবিধা পায় না। পরিবার থেকে অশিক্ষা, দরিদ্রতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক শিশু তাদের অধিকার ভোগ করা তো দূরের কথা তারা জানেই না তাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছ থেকে কি কি অধিকারের প্রাপ্যতা রয়েছে। উল্লেখিত বিদ্যমান সমাজে আলালের ঘরের দুলালরা না চাইতেই সে অধিকার ভোগ করে। সেখানে গরিবের সন্তানদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাদের অধিকার অধরা থেকে যায়। কারণ অধিকার ভোগের মানদ- অর্থ বিরাজমান এই বৈষম্য দূর করার জন্য রাষ্ট্র শিশুদের কল্যাণের জন্য আলাদা আইন করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে শিশু অধিকারের ব্যাপারে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। আর এ জন্য প্রতিবছর ২০ নবেম্বর বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ পালিত হয়। জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে শিশু অধিকার সনদ ঘোষণা করে। এই সনদে অনুস্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। ১৯৭৪ সালের তৎকালীন বঙ্গবন্ধু সরকার দুস্থ, এতিম, আশ্রয়হীন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুসহ সব শিশুর কল্যাণ ও অধিকার সংরক্ষণের জন্য শিশু
আইন প্রণয়ন করেন।
বাস্তবতা হলো শিশুর অধিকার ও তাদের কল্যাণের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আইন থাকার পরেও তারা শুধু অধিকার থেকে বঞ্চিত নয় প্রতিনিয়ত নানা হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের অধীনে শিশু অধিকারসমূহের মধ্যে, অপরাধের ক্ষেত্রে, ন্যায় বিচার, গ্রেফতার ও দন্ড থেকে সুরা, দত্তক গ্রহণ ও প্রদান, পাচার থেকে সুরা, পরিবার বঞ্চিত শিশুর ক্ষেত্রে সঠিক যত্ন, মর্যাদা ও সুনাম, মানবিক আচরণ, শিক্ষা লাভ, শোষণ থেকে রক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, অবসর ও বিনোদন, চিকিৎসা পরিচর্যা, পারিবারিক সংহতি, প্রতিবন্ধী শিশু বেঁচে থাকা। কিন্তু এই শিশু অধিকার থেকে অধিকাংশ শিশুই আজ বঞ্চিত। ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম, বাল্যবিয়ে, উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবার অভাব, অপুষ্টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া, সহিংসতা ও নির্যাতনে ভুগছে সিংহভাগ শিশুই। শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকার সহ সংশৃষ্ট কতৃপক্ষকে অবহেলিত শিশুদের প্রতি নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে শিশু অধিকার নিশ্চিতের লক্ষে কাজ করতে হবে।



































