লক্ষ্য নির্ধারণ এবং বিসিএস পরীক্ষা

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

১২ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৫৫ পিএম


লক্ষ্য নির্ধারণ এবং বিসিএস পরীক্ষা

বিসিএস মানেই ধরাবাধা নিয়ম না যে, আপনাকে চব্বিশ ঘন্টা টেবিলে বই নিয়ে বসে থাকতে হবে। কোচিংয়ের পর কোচিংয়ে বিসিএসের জন্য পড়তে হবে। এর জন্য চাই নিয়ম-মাহফিক বই পড়া। নিজের পড়াটাকে রুটিনের ভিতর রাখা। আর বিসিএসের জন্য যেটা খুবই জরুরী সেটা হলো, নিজের লক্ষটাকে ঠিক করা। লক্ষ স্থির ছাড়া যেমন তীর সঠিক স্থান ভেদ করতে পারেনা তেমনি জীবনে  লক্ষ স্থির না করলে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব না। সাফল্য অর্জন করতে হলে নিজের প্রতি আস্থাশীল ও লক্ষটাকে ঠিক করতে হবে। তাহলেই বিসিএসের মত যেকোন কৃতিত্বপূর্ণ কাজ অর্জন করা সম্ভব হবে। আর তেমনি একজন লক্ষ স্থিরকারী সফল ব্যক্তি জাকির মুন্সী। তিনি ৩৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে ৭৪তম স্থান অর্জন করেছেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি গোয়াল পাড়া, বারদী, সোনারগাঁ, নারায়নগঞ্জ। তাঁর পিতা এসহাক মুন্সী পেষায় কৃষক মাতা হাফেজা বেগম একজন গৃহিনী।

নবম শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় বিসিএস সম্পর্কে কিছুটা ধারনা পায় স্কুল শিক্ষক জয়নাল আবেদিনের কাছ থেকে। তারপর ২০০৫সালে গোয়াল পাড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে জিপিএ ৪.২৫ পেয়ে মাধ্যমিক পাস করেন। তারপর ভর্তি হন দনিয়া কলেজে। সেখান থেকে জিপিএ   ৪.৮০পেয়ে ব্যবসায় শিক্ষায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তির্ন হন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ব্যবস্থাপনা বিভাগে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিজিপিএ ৩.৫৮ পেয়ে বিবিএ পাশ করেন  ২০১১সালে। এবং ২০১২সনে সিজিপিএ ৩.৭৩ পেয়ে এমবিএ শেষ করেন । এর মধ্যে ৩৫তম বিসিএসের সারকুলার দেয়। তখনি পড়ার প্রতি বেশ মনোযোগী হয়ে উঠেন জাকির মুন্সী। ২০১৫সনে এসআই পদে চাকুরি পান। কিন্তু আর একজন গুণী ব্যক্তির ছায়া ও অনুপ্রেরণা তাঁর উপরে ছিলো বিধায়। এসআই পদে চাকুরিটা করেননি। যার প্রেরনায় চেষ্টা  করেছেন বিসিএসের জন্য। তিনি হলেন মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রোকসানা পারভীন সাথী। তিনি সবসময় বলতেন 'তোমাকে আরও ভালোকিছু করতে হবে। তোমাকে বিসিএস পরীক্ষা দিতে হবে।তোমাকে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে হবে, তোমার দ্বারাই সম্ভব।'

২০১৫সালে  ৩৫তম বিসিএসে ননক্যাডারের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন। কিন্তু তার পরেও তাকে কোন অলসতা মগ্নকরে রাখতে পারেনি। তিনি প্রস্তুতি নিয়েছেন ৩৬তম বিসিএসের জন্য। ২০১৫সালে মে মাসে ৩৬তম বিসিএসের সার্কুলার হলে তাতে অংশ নেন তিনি। প্রিলি ও রিটেনে পাশ করেন এবং ভাইবাও সম্পন্ন করেন। ভাইবা খুব ভালো হওয়ায়। তিনি মনে করেছিলেন যেকোন একটা ক্যাডার তিনি পাবেনই। এমন আত্মবিশ্বাস ছিলো নিজের প্রতি। ভাইবার রেজাল্ট যখন দেখেন, তিনি প্রথম পছন্দের প্রশাসন ক্যাডারের জন্য ৭৪তম স্থানের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তখন খুশির বন্যা চারিদিকে  ছড়িয়ে পরে। তিনি ভেবেছিলেন যেকোন একটা ক্যাডার পাবেন। কিন্তু তার প্রথম পছন্দের প্রশাসন  ক্যাডারটি পাবেন এমনটা কখনো ভাবেননি।

তার এতোবড় অর্জনের পিছনে ছিল নিরোলস সাধনা। তিনি এ অর্জনির জন্য করেছেন অনেক কঠিন পরিশ্রম। তিনি নবম শ্রেণি থেকেই সকাল ছয়টা ত্রিশ মিনিট থেকে পড়তেন স্কুলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত। স্কুল থেকে বাসায় এসে কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে আবার বসতেন পড়তে। এ নিয়মটা ধারাবাহিকভাবে চালিয়েছেন বিসিএসের সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত।
জাকির মুন্সী আরও বলেন, আমি বিসিএসের জন্য প্রিলি ও রিটেনের জন্য কয়েক মাস কোচিংয়ে পড়েছি। আসলে কোচিংয়ে পড়া না পড়া নিজের কাছে। আমার যেটা মনে হয় বিসিএসের জন্য খুবই জরুরী সেটা হলো, গ্রুপ স্টাডি। আমরা যেটা করতাম তাহলো অযোথা ঘোড়াফেড়া বা সময় নষ্ট না করে। আমরা সপ্তাহে তিনদিন পূর্বের নির্ধারিত স্থানে। কিছু বন্ধু মিলে গ্রুপ স্টাডি করতাম। আর এ গ্রুপ স্টাডির আর একটা মূল অংশ ছিলো ভাইবা। এ ভাইবা আমরা নিজেরাই নিজেদের ভাইবা নিতাম। আর এটা ফর্মাল অনুযায়ি হতো। ভাইবার জন্য প্রতিজন প্রতি এক ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা ত্রিশ মিনিট করে নিতাম।

বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য আমার পরামর্শ হলো, প্রথমে লক্ষটাকে ঠিক করতে হবে যে, আপনি কি বিসিএস ক্যাডার হতে চান নাকি অন্য কোন জবসেকশনে যেতে চান। আগে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী হতে হবে যে, হ্যা আমি পারবো আমাকে দিয়ে এটা সম্ভব। আর এজন্য আপনাকে কঠোর পরিশ্রমী হতে হবে। দৈনন্দিন কাজের একটা রুটিন করে ফেলুন। রুটিন মাফিক কাজ করলে সাফল্য আপনার আসবেই। বিসিএসের জন্য যেকোন একসেট রেফারেন্স বই পড়ে শেষ করুন এবং তা বারবার রিভাইজ দিন। প্রয়োজনে আরও অন্য বই পড়ুন। আজ যে টপিকটা পড়েছেন কাল নতুন টপিক পড়ার আগে গতকালের টপিকটা রিভাইজ দিন। এভাবে পাঁচ ছয়মাস বা তারও বেশী অনুশীলন করুন দেখবেন সাফল্য আপনার দিকে ছুটে আসবেই।

Ads