বিমানের জন্য ১০টি এয়ারবাস কিনতে বুধবার চুক্তি করবে বাংলাদেশ
০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি বুধবার (৭ অক্টোবর) সই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩০ সালের আগেই শুরু করার বিষয়ে জোর দিচ্ছে সরকার।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত মঙ্গলবার বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উন্নয়নে ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি করার প্রস্তুতি চলছে। তবে উড়োজাহাজ সরবরাহের সময়সূচি এগিয়ে আনা জরুরি।
প্রস্তাবিত ১০টি উড়োজাহাজের মধ্যে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড-বডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ রয়েছে। দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে এ৩৫০ উড়োজাহাজ এবং আঞ্চলিক ও মধ্যপাল্লার রুটে এ৩২১নিও ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই চুক্তি হলে নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বিমানের বহরে মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া এগোবে। এর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। তাই সরবরাহের সময় এগিয়ে আনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লটজের নেতৃত্বে লুফথানসার একটি প্রতিনিধিদল মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে আকাশ যোগাযোগ, বিমানের উন্নয়ন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলো উঠে আসে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে। আঞ্চলিক বিমান চলাচল কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে লুফথানসাকে দেশে উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) সুবিধা গড়ে তোলায় বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশে দক্ষ বিমান চলাচলকর্মী তৈরিতেও লুফথানসা বিমানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন মিল্লাত। তাঁর মতে, এ ধরনের সহযোগিতা দেশের বিমান চলাচল খাতের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
এ সময় বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে থাকা ‘হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল’ (এইচআরসিএম) শ্রেণিবিন্যাস প্রত্যাহারে জার্মানির সহযোগিতা চান মন্ত্রী। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো কার্গোর ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, এই শ্রেণিবিন্যাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণ ও ঘাটতিগুলো সমাধানে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিরীক্ষায় উভয় বিমানবন্দরই ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এইচআরসিএম শ্রেণিবিন্যাস প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক এয়ার কার্গো কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে জার্মানির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় সরকার।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বিমান যোগাযোগ এবং পর্যটন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে। আগামী দিনে দুই দেশের বিমান চলাচল সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
বুধবার ঢাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও এয়ারবাসের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হওয়ার কথা রয়েছে।





























