খাগড়াছড়িতে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে র‍্যালি ও সচেতনতামূলক আলোচনা


খাগড়াছড়িতে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে র‍্যালি ও সচেতনতামূলক আলোচনা


বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে র‍্যালি ও সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

“জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিভিল সার্জন কার্যালয়, খাগড়াছড়ির উদ্যোগে এবং হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও জাবারাং কল্যাণ সমিতির সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন পেরাছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিম্বিসার খীসা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. প্রতীম চাকমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পুষ্টি বিশেষজ্ঞ রিমি চাকমা, জাবারাং কল্যাণ সমিতির “Access to and Utilization of Lifesaving Services by Marginalized Communities in Chittagong Hill Tracts in Bangladesh”  প্রকল্পের প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর বিনোদন ত্রিপুরা, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক লায়স দেওয়ান ও সহকারী শিক্ষক নিপা মারমা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিশুর সুস্থ বিকাশ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে মাতৃদুগ্ধের বিকল্প নেই। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে মায়ের প্রথম দুধ (শাল দুধ) খাওয়ানো এবং প্রথম ছয় মাস শুধু মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পুষ্টি বিশেষজ্ঞ রিমি চাকমা ‘গোল্ডেন থাউজেন্ড ডেইজ’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শিশুর জীবনের প্রথম এক হাজার দিন তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে অপুষ্টি ও বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

সহকারী শিক্ষক নিপা মারমা বলেন, এখনও অনেক পরিবারে গর্ভকালীন পুষ্টি ও শিশুর যত্ন নিয়ে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে। এসব কুসংস্কার দূর করে বিজ্ঞানভিত্তিক স্বাস্থ্যচর্চার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

সিনিয়র সহকারী শিক্ষক লায়স দেওয়ান পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, আমিষের প্রয়োজনীয়তা এবং মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রধান অতিথি ডা. প্রতীম চাকমা বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালনের ইতিহাস ও গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মাতৃদুগ্ধ শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

সভাপতির বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক বিম্বিসার খীসা বলেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাতে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর পিংকী রানী ত্রিপুরা।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর ১ থেকে ৭ আগস্ট বিশ্বব্যাপী বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হয়। এর লক্ষ্য হলো জন্মের পরপরই শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করানো, প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মাতৃদুগ্ধ নিশ্চিত করা এবং দুই বছর বা তার বেশি সময় পর্যন্ত উপযুক্ত পরিপূরক খাবারের পাশাপাশি মাতৃদুগ্ধ পান অব্যাহত রাখার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

Ads