চূড়ান্ত ধাপে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো: উঠছে মন্ত্রিসভায়
৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:১৫ এএম
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশন বাস্তবায়ন নিয়ে চূড়ান্ত ধাপের কাজ চলছে। বেতনকাঠামোর খসড়া প্রস্তুত হলে শিগগিরই তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললেই জারি করা হবে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন।
গতকাল বুধবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
নতুন এই বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ প্রণয়নে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, কমিটি তাদের সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত করে এনেছে। এই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদল ১২-১৬ জুলাই ঢাকায় এসে অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। আইএমএফ দেশের রাজস্ব আহরণ জোরদার করার পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড চালু ও নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের অর্থ সংস্থানের উৎস নিয়ে জানতে চায়।
তবে বেতনকাঠামোর সাথে ঋণ সহায়তার বিষয়টি নাকচ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফের ঋণের সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই। কাজ চলছে। বেতনকাঠামো হবে এবং প্রজ্ঞাপন জারি হতে বেশি সময় লাগবে না।’ বিষয়টি নিয়ে বার বার মন্তব্য না করার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘গণমাধ্যমগুলো ভিন্ন ভিন্নভাবে খবর প্রচার করছে। আমি একবারে শেষেই এ নিয়ে বিস্তারিত বলব।’
অর্থ বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আইএমএফ বেতনকাঠামো নিয়ে সরাসরি কোনো আপত্তি জানায়নি। তারা কেবল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থান এবং রাজস্ব আয় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। এই কমিশন এ বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে।
কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বজায় রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়।
নতুন এই সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে, যেখানে বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেছনে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নাসিমুল গনি কমিটি চলতি অর্থবছরে মূল বেতন এবং পরবর্তী অর্থবছরে ভাতা কার্যকর করার পক্ষে মতামত দিয়েছে।
এর আগে গত ১১ জুন সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দেন, বিগত ১১ বছরের মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করে ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। সেই অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে বরাদ্দ ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে, যার অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেতন, ভাতা ও পেনশন বাস্তবায়নে ব্যয় হবে।



















