গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন জুলাই অভ্যুত্থান, কারো একক নয়: প্রধানমন্ত্রী
০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির নয়, বরং এটি দেশের গণতন্ত্র ও শান্তিকামী সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অর্জনের ফসল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’ ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি (৩৬ জুলাই) উপলক্ষে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
স্মরণসভার একপর্যায়ে জুলাই আন্দোলনে প্রাণ হারানো বীর শহীদদের পরিবারের সদস্যরা মঞ্চে এসে তাদের সন্তান ও স্বজন হারানোর লড়াকু দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। এক শহীদ জননী তার সন্তানের আত্মত্যাগের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লে অনুষ্ঠানস্থলে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের পাশাপাশি সামনের সারিতে বসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এ সময় নিজের অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি, তার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।
শহীদ পরিবারের সদস্যদের আকুতি শোনার পর অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে তার নিজের ওপর, তার পরিবার এবং দেশের সাধারণ মানুষের ওপর যে নির্মম অবিচার করা হয়েছে—আল্লাহ আজ তাকে সেই সবের প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তিনি কোনো প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি করতে চান না। ক্ষমতার অপব্যবহার না করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই তার সরকারের মূল লক্ষ্য।
নিজের নির্বাসিত জীবনের স্মৃতি চারণ করে প্রধানমন্ত্রী আবেগালুত কণ্ঠে বলেন, “আমি ১৭ বছর আগে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে এসে আমার বহু চেনা মুখ ও সহকর্মীকে আর খুঁজে পাইনি। বিশেষ করে ছাত্রদলের অনেককে আমি রেখে গিয়েছিলাম, যাদের অনেককেই আজ আর ফিরে পাব না। অনেকে এই সময়ের মধ্যে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।”
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে তারেক রহমান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ছাত্র-জনতার ওপর যারা গুলি চালিয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেকের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিচারের নামে যেন কোনো ধরনের অবিচার না হয়, সেটিও কঠোরভাবে লক্ষ রাখতে হবে। আইনকে নিজের হাতে না তুলে নিয়ে, সময় লাগলেও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিটি হত্যাকারীর সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা, আহত ব্যক্তিবর্গ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।



















